বাংলাদেশে চার দশকের পথচলা পূর্ণ করেছে ওয়াটারএইড। নিরাপদ পানি, মর্যাদাপূর্ণ স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর হাইজিন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘ এই যাত্রা জনগোষ্ঠী, সরকার, অংশীদার, নাগরিক সমাজ, দাতা সংস্থা, গণমাধ্যম এবং সংস্থাটির কর্মীদের সম্মিলিত অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বছরব্যাপী উদযাপন কর্মসূচির সূচনা
সম্প্রতি বিশেষ লোগো উন্মোচনের মধ্য দিয়ে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছরব্যাপী উদযাপন কর্মসূচির সূচনা করেছে। এ আয়োজনে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ওয়াটারএইডের নেতারা অংশ নেন। পাশাপাশি বর্তমান ও সাবেক সহকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়াটারএইড দক্ষিণ এশিয়ার রিজিওনাল ডিরেক্টর ডা. খায়রুল ইসলাম, ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান, ওয়াটারএইড নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদর্শন নেওপানে এবং ওয়াটারএইড পাকিস্তানের কান্ট্রি ডিরেক্টর মুহাম্মদ জুনাইদ।
চার দশকের অর্জন ও ভবিষ্যৎ অঙ্গীকার
চার দশক ধরে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ দেশের ওয়াশ (পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন) খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে আসছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন সেবা নিশ্চিতকরণ, সেবা ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনবান্ধব নীতি প্রণয়নে সরকারকে সহায়তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল ওয়াশ সেবা সম্প্রসারণে সংস্থাটি কাজ করে যাচ্ছে।
৪০ বছর পূর্তির এই উদযাপন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের সেই সম্মিলিত উত্তরাধিকারকে সামনে এনেছে, যা মানুষের পাশে থেকে, মানুষের সঙ্গে এবং মানুষের জন্য কাজ করার অভিজ্ঞতায় গড়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এটি এমন এক ভবিষ্যতের প্রতি নতুন অঙ্গীকার, যেখানে প্রত্যেকে, সর্বত্র এবং সর্বদা নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর হাইজিনের অধিকার ভোগ করতে পারবে।
নেতাদের বক্তব্য
অনুষ্ঠানে ডা. খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘এই উদযাপন কৃতজ্ঞতা, আত্মবিশ্লেষণ ও নতুন অঙ্গীকারের একটি বিশেষ মুহূর্ত। ওয়াটারএইড বাংলাদেশের যাত্রা গড়ে উঠেছে সেইসব মানুষ ও জনগোষ্ঠীর হাত ধরে, যাদের সঙ্গে আমরা কাজ করি; সেই সহকর্মীদের অবদানে, যারা এই মিশনকে এগিয়ে নিয়েছেন; এবং সেই অংশীদারদের সহযোগিতায়, যারা আমাদের পাশে থেকেছেন।’
তিনি বলেন, ‘৪০ বছর পূর্তির এই সময়ে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার অঙ্গীকার আরও দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করবে বলে আমি আশা করি।’
হাসিন জাহান বলেন, ‘ওয়াটারএইড বাংলাদেশের ৪০ বছরের পথচলা দেখিয়েছে, ধারাবাহিক অঙ্গীকার, আস্থাভিত্তিক অংশীদারত্ব এবং জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক উদ্যোগ মানুষের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে নারী, যুব ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং অভিজ্ঞতা ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কাজকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক ও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। একই সঙ্গে এটি নতুন উদ্যম, সাহস ও আশার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।’
বছরজুড়ে কার্যক্রম
ওয়াটারএইড বাংলাদেশের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছরজুড়ে বিভিন্ন আয়োজন ও সম্পৃক্ততামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে সম্মিলিত অর্জন উদযাপন, দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে সম্মান জানানো এবং সবার জন্য ওয়াশ অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হবে।
চার দশকের এই পথচলায় যুক্ত থাকা বর্তমান ও সাবেক সহকর্মী, জনগোষ্ঠী, অংশীদার, সরকারি প্রতিষ্ঠান, দাতা সংস্থা, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ।



