রাতে বারবার ঘুম ভাঙা: বিপদ সংকেত উপেক্ষা করবেন না
রাতে এক-দুবার ঘুম ভাঙা স্বাভাবিক হলেও, যদি প্রতিদিন মাঝরাতে ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যায় এবং আর ঘুম না আসে, তবে এটি সাধারণ সমস্যা নয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, এটি 'স্লিপ মেইনটেন্যান্স ইনসোমনিয়া' নামে পরিচিত এবং এটি স্লিপ অ্যাপনিয়া, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, থাইরয়েড বা হরমোনের পরিবর্তন, ডায়াবেটিসের মতো অন্তর্নিহিত শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। অবহেলা করলে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ঘুম ভাঙার প্রধান কারণসমূহ
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট মেডিকেলের তথ্যানুযায়ী, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ দায়ী। সেগুলো হলো:
- স্লিপ অ্যাপনিয়া: এটি একটি বিপজ্জনক ব্যাধি, যেখানে ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাস বারবার বন্ধ বা ধীর হয়ে যায়। অনেকে বুঝতেই পারেন না যে শ্বাস আটকে যাওয়ার কারণে ঘুম ভাঙছে। সকালে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, নাক ডাকা ও মনোযোগের সমস্যা দেখা দেয়।
- ইনসোমনিয়া ও মানসিক চাপ: অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা বিষণ্নতায় আক্রান্তরা মাঝরাতে জেগে ওঠেন এবং চিন্তার কারণে আর ঘুমাতে পারেন না। ফলে সারাদিন খিটখিটে মেজাজ ও ক্লান্তি বজায় থাকে।
- মাঝরাতে প্রস্রাব: ডায়াবেটিস, প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া, ওভার-অ্যাকটিভ ব্ল্যাডার, গর্ভাবস্থা বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বারবার বাথরুমে যেতে হয়, যা গভীর ঘুম নষ্ট করে।
- ঘরের তাপমাত্রা ও পরিবেশ: অতিরিক্ত গরম ঘর বা রাতে ঘামার প্রবণতা ঘুম ভাঙার কারণ হতে পারে। ঠান্ডা, শান্ত ও অন্ধকার ঘর ভালো ঘুমের জন্য আদর্শ। ঘুমানোর আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির স্ক্রিনের নীল আলো সারকাডিয়ান রিদম ব্যাহত করে।
ভালো ঘুমের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
- ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ করুন।
- শোবার ঘর অন্ধকার, শান্ত ও আরামদায়ক তাপমাত্রায় রাখুন।
- যদি সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সারাদিনের কর্মক্ষমতা নষ্ট করে, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচাতে পারে।


