শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন হাজারেরও বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে টাস্কফোর্স গঠন
গত মঙ্গলবার (২০ জুন) শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস করতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা একটি বিশেষ টাস্কফোর্সে যোগ দেবেন। একইসঙ্গে, যারা মশার প্রজননের কারণ হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মশা বিস্তারের কারণ ও অভিযান
শ্রীলঙ্কা সরকারের মতে, ভারী বৃষ্টিপাত, সাম্প্রতিক বন্যার কারণে জমে থাকা পানি এবং অপরিকল্পিতভাবে ফেলে রাখা বর্জ্য মশার দ্রুত বংশবিস্তারের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে। এসব প্রজননস্থল পরিষ্কার করতে আজ বুধবার থেকে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরু করা হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিসংখ্যান
চলতি বছরে শ্রীলঙ্কায় প্রায় ৫০ হাজার ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৯ জনের। ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বিশেষ করে চলতি জুন মাস থেকে বাড়তে শুরু করেছে। যদিও এই সংখ্যা ২০১৭ সালের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের তুলনায় অনেক কম। সে বছর ১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং মারা গিয়েছিলেন ৪৪০ জন।
হাসপাতালগুলোতে চাপ ও সরকারের উদ্বেগ
শ্রীলঙ্কা সরকারের ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ইউনিট আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, এ বছর রোগীর সংখ্যা আরও বাড়লে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ইউনিটের প্রধান কপিলা কানানগারা সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাসপাতালগুলো ইতিমধ্যে চাপের মধ্যে রয়েছে। আমরা চাই না ২০১৭ সালের মতো পরিস্থিতি আবার তৈরি হোক।’



