প্রতীকী ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
লজ্জা, অপমান আর একাকিত্ব নিয়ে বছরের পর বছর প্রায় ঘরবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন দেশের অসংখ্য নারী। তাঁদের এই নীরব যন্ত্রণার নাম—প্রসবজনিত ফিস্টুলা। চিকিৎসকেরা বলছেন, প্রসবজনিত ফিস্টুলা পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য। কিন্তু নিরাপদ প্রসবসেবা না পাওয়ার কারণে বহু নারী ফিস্টুলার ভুক্তভোগী। ফিস্টুলা রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনতে পারলে রোগের নিরাময় সম্ভব।
ফিস্টুলার কারণ ও প্রভাব
প্রসবজনিত ফিস্টুলা সাধারণত দীর্ঘ ও কঠিন প্রসবের সময় মূত্রথলি বা মলদ্বারের সঙ্গে যোনিপথের অস্বাভাবিক ছিদ্রের কারণে হয়। এর ফলে মূত্র বা মল অনিয়ন্ত্রিতভাবে নির্গত হয়, যা রোগীর জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অস্বস্তিকর। এই অবস্থায় অনেক নারী সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
চিকিৎসকেরা জানান, নিরাপদ প্রসবসেবা নিশ্চিত করা গেলে ফিস্টুলা পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রসবকালীন জটিলতা মোকাবিলায় দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা থাকলে এই রোগ এড়ানো যায়। ইতিমধ্যে ফিস্টুলায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য অস্ত্রোপচার ও পুনর্বাসন সেবা কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
- দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা শুরু করা জরুরি
- সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক সমর্থন প্রয়োজন
- প্রসবকালীন সেবার মান উন্নয়ন করতে হবে
বাংলাদেশে ফিস্টুলা রোগীদের সংখ্যা উদ্বেগজনক হলেও অনেকেই চিকিৎসার আওতার বাইরে রয়ে যান। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এই রোগীদের খুঁজে বের করে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হলে তাদের জীবনমান ফিরিয়ে আনা যাবে।



