জনস্বাস্থ্য অ্যাডভোকেসি সংগঠন প্রজ্ঞা (নলেজ ফর প্রোগ্রেস) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যাতে অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অসংক্রামক রোগ (এনসিডি), বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যয় করা হয়।
বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের ইতিবাচক পরিবর্তন
মঙ্গলবার (১১ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রজ্ঞা বলেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের উন্নতির দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, বহু বছর ধরে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ জাতীয় বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশে স্থবির ছিল। প্রথমবারের মতো প্রস্তাবিত বাজেটে এই বরাদ্দ মোট জাতীয় বাজেটের ৭.৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১.০১ শতাংশের সমান, যা আগের অর্থবছরে ছিল মাত্র ০.৫৮ শতাংশ।
অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় বরাদ্দের চ্যালেঞ্জ
তবে প্রজ্ঞা বলেছে, মূল চ্যালেঞ্জ হলো বাড়তি বরাদ্দ দেশের সবচেয়ে জরুরি জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকারগুলিতে বিনিয়োগ করা নিশ্চিত করা। সংগঠনের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ। রোগের এই বিশাল বোঝা সত্ত্বেও, মোট স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪.২ শতাংশ অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বরাদ্দ করা হয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিচালিত স্বাস্থ্য ও অসুস্থতা অবস্থা জরিপ ২০২৫-এর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রজ্ঞা জানায়, উচ্চ রক্তচাপ দেশের শীর্ষ দশটি রোগের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। সংগঠনটি উল্লেখ করে, উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগ এবং অন্যান্য অসংক্রামক রোগের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণগুলোর একটি।
উচ্চ রক্তচাপের ভয়াবহতা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা
প্রজ্ঞা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের প্রতিবেদনের উল্লেখ করে জানায়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে হৃদরোগে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ জন মারা গেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মৃত্যুর ৫২ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল উচ্চ রক্তচাপ।
প্রজ্ঞা আরও তুলে ধরে, গবেষণায় দেখা গেছে উচ্চ রক্তচাপ স্ক্রিনিং ও চিকিৎসায় বিনিয়োগকৃত প্রতি ১ টাকার বিপরীতে মোট ১৮ টাকা ফেরত পাওয়া যায়। তবুও, অপর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের কারণে দেশের সব প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্নভাবে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংগঠনটি জানায়।
প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালকের মতামত
প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে মন্তব্য করে প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের বলেন, “বর্ধিত স্বাস্থ্য বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় বিনিয়োগ করা উচিত। বিশেষ করে, তৃণমূল পর্যায়ের সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করলে অসংক্রামক রোগের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।”
নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান
প্রজ্ঞা নীতিনির্ধারকদের কাছে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ, স্ক্রিনিং ও চিকিৎসা কর্মসূচিতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি যুক্তি দেখিয়েছে, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে লক্ষ্যবস্তু বরাদ্দ স্বাস্থ্য খাতে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত বরাদ্দের জনস্বাস্থ্য সুবিধা সর্বাধিক করতে এবং দেশে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমাতে সাহায্য করবে।



