হাসিমুখ সমাজ কল্যাণ সংস্থা (এইচএসকেএস) ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় অবস্থিত বিসিএসআইআর স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের আয়োজন করে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ৩০০-এর বেশি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় কমিউনিটি সদস্য বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।
স্বাস্থ্য ক্যাম্পের বিবরণ
গত শনিবার (২০ জুন) বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিসিএসআইআর স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য ক্যাম্পে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। ‘প্রান্তিকতা থেকে মূলধারা: জ্ঞান, সেবা ও সুস্থ ভবিষ্যতের মাধ্যমে সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন’—এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসচেতনতা গড়ে তোলা।
সহযোগী প্রতিষ্ঠান
এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগী হিসেবে ছিল গ্রামীণ হেলথ টেক লিমিটেডের ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম ‘সুখী’। আয়োজকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা ও জনসচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে সুখী দেশের প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। হাসিমুখ এই উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
প্রধান নির্বাহীর বক্তব্য
হাসিমুখ সমাজ কল্যাণ সংস্থার সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত আক্তার বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। এই স্বাস্থ্য ক্যাম্পের মাধ্যমে আমরা শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিরও চেষ্টা করেছি। আমাদের চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবক ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।’
সম্মাননা ও স্বীকৃতি
অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারী চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সম্মাননা জানানো হয়।
হাসিমুখের অন্যান্য কার্যক্রম
হাসিমুখ সমাজ কল্যাণ সংস্থা ২০১৪ সাল থেকে দারিদ্র্য, ক্ষুধা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, লিঙ্গসমতা, কর্মসংস্থান, বৈষম্য হ্রাস, জলবায়ু অভিযোজন ও অংশীদারত্বভিত্তিক উন্নয়নসহ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজিএস ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৮, ১০, ১২, ১৩ ও ১৭) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ৩ লক্ষাধিক মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বর্তমানে হাসিমুখ জলবায়ু-অভিবাসী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে শিক্ষা প্রদান করছে; যেখানে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৬০০ জন প্রাথমিক, ৪০০ জন মাধ্যমিক, ৬৬ জন এসএসসি ও ৩৬ জন এইচএসসি সম্পন্ন করেছেন। পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মিল, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির মাধ্যমে ৩০ হাজার কিশোরী উপকৃত হয়েছে এবং ১২ হাজারের অধিক মানুষ বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছেন। এ ছাড়া ১ হাজার তরুণ-তরুণীকে ডিজিটাল দক্ষতা, ৭০০ জনকে পরিবেশবান্ধব কারুশিল্প প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দাকোপে পরিচালিত মাসিক স্বাস্থ্যসচেতনতা ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি প্যাড উদ্যোগের মাধ্যমে শত শত নারী নিয়মিত সহায়তা পাচ্ছেন। ভাসমান বিদ্যালয়, ডিজিটাল সাক্ষরতা, জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমসহ হাসিমুখ জলবায়ু-সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।



