স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার চারটি হেলিকপ্টার ক্রয় করবে। এই হেলিকপ্টারগুলো উপজেলা থেকে জটিল ও গুরুতর রোগীদের জেলা সদর হাসপাতাল বা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে আসতে ব্যবহার করা হবে।
বাজেটে জিডিপির এক শতাংশ বরাদ্দ
রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালসহ ১০ জেলায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ) উদ্বোধন ও হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবারের বাজেটে জিডিপির এক শতাংশ অর্থাৎ ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজার নারী। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসাসেবা দেবেন। বাড়িতে কোনো প্রসূতির ডেলিভারি হবে না এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো হবে ইউনিক মানের।
আইসিইউ উদ্বোধন ও ডেঙ্গু মোকাবিলা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে বলে ১০ জেলায় আইসিইউ সেবা চালু করা হয়েছে। বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় এই আইসিইউ কেন্দ্রগুলো চালু হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের দায়িত্বরতদের সজাগ দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেন এবং কোনো অসুবিধা হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানাতে বলেন।
হাসপাতালের অপরিচ্ছন্নতায় ক্ষোভ
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের রান্নাঘর ও সার্বিক পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন দেখে মন্ত্রী জেলা সিভিল সার্জনের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি আগামী তিন দিনের মধ্যে রান্নাঘরের অপরিচ্ছন্ন সরঞ্জাম পরিষ্কার করে তাকে অবহিত করার নির্দেশ দেন। অন্যথায় সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
চিকিৎসকদের সতর্কতা
মন্ত্রী চিকিৎসকদের সতর্ক করে বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অতীতের মতো সেবা দিলে চলবে না। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্য খাতের ওপর জোর দিয়েছেন এবং তিনি প্রতিদিন ১৫-১৬ ঘণ্টা কাজ করছেন। তাই সবার সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।
বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ
সরকার বিদেশিদের সহযোগিতায় নারীদের জন্য দুটি ১৫০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতালসহ সারা দেশে ২০টি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করবে। এসব হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস, বেস্ট ক্যান্সারসহ বিভিন্ন সেবা থাকবে।
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ
মন্ত্রী নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ করে বলেন, ডিসি ও এসপিদের হাত অনেক লম্বা। অফিসে হাত-পা গুটিয়ে না থেকে মানুষের সেবায় কাজ করতে হবে এবং নিজ উদ্যোগে হাসপাতাল তদারকি করতে হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি প্রমুখ।
উল্লেখ্য, নির্ধারিত সময়ের আগেই হাসপাতালে পৌঁছে মন্ত্রী ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীদের হাজিরা খাতা খতিয়ে দেখেন এবং পুরো হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে রান্নাঘরের নোংরা অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।



