ডা. তাসনিম জারার ৮টি সকালের অভ্যাসে দ্রুত ওজন কমানোর সহজ পদ্ধতি
ডা. তাসনিম জারার ৮ সকালের অভ্যাসে দ্রুত ওজন কমানো

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তাসনিম জারা সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় দ্রুত ওজন কমানোর জন্য অত্যন্ত কার্যকর ৮টি সকালের অভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই অভ্যাসগুলো শুধু ওজন কমাতেই সাহায্য করবে না, বরং সার্বিকভাবে শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ওজন কমানোর জন্য ৮টি সকালের অভ্যাস

সকালে নাস্তার আগে পানি পান

ডা. তাসনিম জারা বলেন, সকালে নাস্তা খাওয়ার আগে আধা লিটার পানি পান করলে পেট কিছুটা ভরা লাগে। এর ফলে কম নাস্তা খেলেও মনে হবে পেট ভরে গেছে। পানিতে কোন ক্যালোরি নেই এবং এটি ওজন বাড়ায় না বলে নিশ্চিন্তে এই অভ্যাস গড়ে তোলা যায়। দিনের অন্যান্য বেলায়ও খাওয়ার আগে আধা লিটার পানি পান করে নিলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম খাবার খেয়েও পেট ভরা অনুভূতি হবে, যা ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে। অনেকের ধারণা খাওয়ার আগে পানি পান করলে হজমে সমস্যা হয়, কিন্তু এই ধারণার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলা

ক্ষুধা লাগলে অনেকেই সিঙ্গারা, পুরি, জিলাপি বা কোকের মতো অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ডা. জারা পরামর্শ দেন, সকালেই সারা দিনের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিকল্পনা করে রাখুন। ফল কেটে বক্সে নিয়ে যাওয়া, বাদামের প্যাকেট সঙ্গে রাখা বা ঘরে তৈরি কোন পুষ্টিকর খাবার প্রস্তুত করা এই সমস্যা সমাধানে সহায়ক হতে পারে। আগে থেকে পরিকল্পনা করলে অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সকালে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা

প্রতিদিনের রুটিনের মধ্যেই হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা যায়। কাজে যাওয়ার সময় হেঁটে যাওয়া, রিক্সা বা বাসে একটু আগে নেমে বাকি পথ হাঁটা, গাড়ি কিছু দূরত্ব আগে পার্ক করে হেঁটে যাওয়া—এসব উপায়ে ধীরে ধীরে হাঁটার পরিমাণ বাড়ানো যায়। দ্রুত গতিতে হাঁটা ওজন কমানোর পাশাপাশি শরীর সুস্থ রাখতে এবং ওজন ধরে রাখতেও অপরিহার্য বলে তিনি মত দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিনি ছাড়া চা-কফি পান

সকালে চা-কফি পান করার অভ্যাস থাকলে সেগুলো চিনি ছাড়া পান করার চেষ্টা করুন। চিনি থেকে সহজেই বাড়তি ক্যালোরি আসে, যা ওজন বাড়াতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে চিনি এড়িয়ে চলা উচিত। চা-কফিতে চিনি না খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে ওজন কমানো অনেক সহজ হবে। প্রথমদিকে একটু অস্বস্তি লাগলেও ধীরে ধীরে চিনি ছাড়া চা-কফির স্বাদই ভালো লাগবে। এছাড়া চায়ের সাথে বিস্কিট খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ অধিকাংশ বিস্কিটেই প্রচুর ক্যালোরি থাকে।

নিয়মিত ওজন মাপা

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ওজন মাপেন তারা ওজন কমাতে বেশি সফল হন। সকালে বাথরুম সেরে খালি পেটে একই ধরনের পোশাকে ওজন মেপে তা খাতায় বা মোবাইল অ্যাপে নোট করে রাখুন। এতে ওজন বাড়ছে না কমছে তা সহজেই পর্যবেক্ষণ করা যায়। ওজন মাপলে সরাসরি ওজন কমে না, কিন্তু এটি সচেতনতা বাড়িয়ে ওজন কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। তবে প্রতিদিন ওজন মাপলে কারও কারও উদ্বেগ হতে পারে, তাই সপ্তাহে একবার বা কয়েক দিন পর পর মাপা যেতে পারে।

দিনের শুরুতে ব্যায়াম করা

ওজন কমানোর জন্য ব্যায়াম করা জরুরি, কিন্তু ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় তা করা হয়ে ওঠে না। সকাল সকাল ব্যায়াম সেরে ফেললে এই সমস্যা এড়ানো যায়। দড়িলাফ, দ্রুত হাঁটা, দৌড়, উঠবস বা ভারোত্তোলনের মতো যে কোন ব্যায়াম বেছে নিয়ে সকালে করা যেতে পারে। দিনের শুরুতে ব্যায়াম করলে মনও সতেজ থাকে এবং বিকালে সময় পেলে আবার ব্যায়াম করা যায়।

পরিমিত ঘুমের অভ্যাস

সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, কম ঘুমের সাথে অতিরিক্ত ওজনের সম্পর্ক রয়েছে। কম ঘুম হলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে এবং ক্লান্তির কারণে ব্যায়াম করা হয় না। প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ওজন কমানোর সময়েও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার ফল

অতিরিক্ত ওজনের ১০০ জন ব্যক্তির উপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা শুধু সকালে ওজন মাপেন তাদের গড়ে ১ কেজি ওজন কমে। অন্যদিকে, যারা ওজন মাপার পাশাপাশি দিনের জন্য একটি অ্যাকশন পয়েন্ট (যেমন: আজ ১০ হাজার কদম হাঁটা, রাত ৮টার পর কিছু না খাওয়া) বেছে নেন, তাদের গড়ে ৪ কেজির বেশি ওজন কমে। অর্থাৎ, সকালে ওজন মাপার পর একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করে নিলে ওজন কমানোর প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়।

ডা. তাসনিম জারা শেষে পরামর্শ দেন, ওজন কমানোর জন্য শুধু একটি অভ্যাস নয়, বরং সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে হবে। উপরের ৮টি অভ্যাস নিয়মিত চর্চা করলে দ্রুত ওজন কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।