স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণা: আসাদগেট-শ্যামলী রিং রোডের সব ক্লিনিক সাত দিনে পরিদর্শন
আসাদগেট-শ্যামলী রিং রোডের সব ক্লিনিক সাত দিনে পরিদর্শন

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ: আসাদগেট-শ্যামলী রিং রোডের সব ক্লিনিক সাত দিনে পরিদর্শন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রাজধানীর আসাদগেট থেকে শ্যামলী রিং রোড পর্যন্ত এলাকার সব ক্লিনিক আগামী সাত দিনের মধ্যে পরিদর্শনের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান এবং অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন আসাদগেট থেকে শ্যামলী রিং রোড পর্যন্ত এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। এই এলাকার সব ক্লিনিক আগামী সাত দিনের মধ্যে পরিদর্শন করা হবে। যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা নয়, বরং জনগণের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

পরিদর্শন প্রক্রিয়া ও কঠোর ব্যবস্থা

পরিদর্শন প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিস্তারিত জানান। প্রথমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়া হবে এবং ত্রুটি সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা শর্ত পূরণ না করলে লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না এবং প্রয়োজনে ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে এই কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং কোনো অনিয়মের সঙ্গে আপস করা হবে না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দেশব্যাপী সম্প্রসারণের পরিকল্পনা

এই কার্যক্রম শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সারা দেশেই ধাপে ধাপে পরিদর্শন চালানো হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এটি একটি জাতীয় উদ্যোগ হিসেবে গৃহীত হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও বাস্তবায়িত হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তদারকি কার্যক্রম

ইতিমধ্যেই মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল দশটায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারে এই তদারকি কার্যক্রম শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সকালে টিজি হাসপাতালে গিয়ে দেখা মেলেনি কোনো দায়িত্বরত চিকিৎসকের। এমনকি রোগীদের ব্যবস্থাপত্রেও পাওয়া যায়নি কোনো চিকিৎসকের স্বাক্ষর। অথচ হাসপাতালটির এনআইসিইউতে ৪টি শিশু ভর্তি রয়েছে, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।

অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ

অভিযোগ উঠেছে, সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালের মাধ্যমে এসব রোগী ভাগিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া, অতিরিক্ত বিল আদায় ও নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী রোগীরা। এই ধরনের অনিয়ম দূর করতেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা ও মানোন্নয়নের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জনগণের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং অনিয়ম কমে আসবে।