ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৪৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৯৭ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ প্রাণহানি
ফেব্রুয়ারি মাসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সড়কপথে। মোট ৪৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত ও ১ হাজার ১৮১ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন। নৌপথে ৬টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু
সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ১৫১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৭ জন নিহত ও ১৩৭ জন আহত হয়েছেন। এটি মোট দুর্ঘটনার ৩৩.৭০ শতাংশ, নিহতের ৩৭.৩৬ শতাংশ ও আহতের ১১.৬০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।
বিভাগভিত্তিক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান
সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ১১৩টি দুর্ঘটনায় ১১৫ জন নিহত ও ৩৮৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে বরিশাল বিভাগে। সেখানে ২২টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৮৫ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিচয়
সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, চালক, পথচারী, পরিবহন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নারী, শিশু, সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩ জন পুলিশ সদস্য, ৩ জন সেনা সদস্য, ১ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য, ২ জন আনসার সদস্য, ২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ৮৫ জন চালক, ৭২ জন পথচারী, ৪৩ জন নারী, ৪১ জন শিশু, ৪৭ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক, ৪ জন শিক্ষক ও ৫ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী অন্তর্ভুক্ত।
যানবাহন ও দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ
ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত ৬৮৭টি যানবাহনের মধ্যে ২৬.৩৪ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩.৭২ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৫.২৮ শতাংশ বাস, ১৪.২৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৪.৮০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৮.৮৭ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৬.৪৭ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস ছিল। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪১.৭৪ শতাংশ গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনা, ৩৩.২৫ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৭.১৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৬.৪৭ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০.২২ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ১.১১ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণ
সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সড়ক পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় অনভিজ্ঞতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, নীতি ও কৌশলগত দুর্বলতা, নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা ও নসিমন-করিমনের অবাধ চলাচল, জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং ও সড়ক বাতির অভাব, সড়কে মিডিয়ান বা রোড ডিভাইডার না থাকা, গাছপালায় অন্ধ বাঁকের সৃষ্টি, মহাসড়কের নির্মাণ ক্রটি, যানবাহনের ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টোপথে যানবাহন চলাচল, সড়কে চাদাঁবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রীবহন এবং বেপরোয়া ও বিরামহীন যানবাহন চালানো।
