তুরাগে গ্যাস বিস্ফোরণে ১০ জন দগ্ধ, গ্যাস লাইনের লিকেজই কারণ বলে ধারণা
তুরাগে গ্যাস বিস্ফোরণে ১০ জন দগ্ধ, লাইনের লিকেজই কারণ

তুরাগে গ্যাস বিস্ফোরণে ১০ জন গুরুতর দগ্ধ, লাইনের লিকেজই সম্ভাব্য কারণ

রাজধানীর তুরাগের কামারপাড়া এলাকায় একটি বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ ১০ জন গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে তুরাগের ১০ নম্বর সেক্টরের কবরস্থান রোডে অবস্থিত একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, বাসার ভেতরে জমে থাকা গ্যাস থেকেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। সংস্থাটির মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, ওই বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার ছিল না, বরং লাইনের গ্যাস ব্যবহৃত হতো।

তিনি বলেন, "হয়তো গ্যাস লাইনে লিকেজ ছিল অথবা রান্না ঘরের চুলার চাবি খোলা (অন) ছিল। বাসার দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় গ্যাস বের হতে না পেরে জমে থাকতে পারে। বৈদ্যুতিক সুইচ অন করা বা সেহরির সময় রান্নার জন্য আগুন ধরানোর ফলে স্পার্ক হয়ে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।"

দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধারকাজ

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গেলেও তাদের কাজ করতে হয়নি, কারণ স্থানীয়রা এরই মধ্যে দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, ভবনের দ্বিতীয় তলার এক পাশের দেওয়াল ভেঙে পড়েছে এবং স্পষ্টতই কোনো বিস্ফোরণ ঘটেছে।

তিনি বলেন, "বাসার সবাই গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা সুস্থ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।"

দগ্ধদের অবস্থা ও চিকিৎসা

জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দগ্ধদের চিকিৎসা চলছে। বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমানের তথ্য অনুযায়ী, দগ্ধদের শরীরের ক্ষতের পরিমাণ নিম্নরূপ:

  • সোনিয়া আক্তার (২৫, অন্তঃসত্ত্বা): শরীরের ১০০% দগ্ধ
  • মো. রুবেল (৩০): ৩২% দগ্ধ
  • রোজা (৩): ১৮% দগ্ধ
  • মো. হাবিব (৩০): ১৯% দগ্ধ
  • রিয়া আক্তার (২৭): ৩২% দগ্ধ
  • এনায়েত (৩২): ৪৫% দগ্ধ
  • দেলেরা (২৮): ১৪% দগ্ধ
  • জুনায়েদ (১০): ২৪% দগ্ধ
  • আয়েশা আক্তার (১৯): ১২% দগ্ধ
  • আবুল কালাম রুবেল (৩৫): ৭% দগ্ধ

ইমার্জেন্সি ইউনিটের বাইরে অবস্থানরত স্বজন সাজেদ মাতব্বর জানান, তিনি ভবনের চারতলায় থাকেন এবং বিকট শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। তিনি বলেন, "দ্রুত নিচে নেমে দেখি, দোতলার ফ্লাটের একপাশের দেওয়াল ভেঙে পড়েছে এবং বাসার সবাই দগ্ধ হয়েছেন। পরে তাদের দ্রুত হাসপাতালে আনা হয়।"

দগ্ধদের তালিকা ও ঘটনার সময়

ভোররাতে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধরা হলেন রুবেল, তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা সোনিয়া আক্তার, মেয়ে রোজা, সোনিয়ার বড় বোন রিয়া, রুবেলের চাচাতো ভাই এনায়েত, তার স্ত্রী দেলেরা, ছেলে জুনায়েদ, এনায়েতের ছোট ভাই হাবিব, এনায়েতের ভাগনি আয়েশা ও আবুল কালাম রুবেল। এই দুর্ঘটনা গ্যাস নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতার গুরুত্ব আবারও তুলে ধরেছে।