শিশুদের স্কুল ভীতি দূর করতে অভিভাবকদের করণীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
শিশুদের স্কুল ভীতি: অভিভাবকদের করণীয় বিষয়ে পরামর্শ

শিশুদের স্কুল ভীতি মোকাবিলায় অভিভাবকদের জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুর্নবাসন কেন্দ্রের মনোবিদ ডা. রাহেনুল ইসলাম সম্প্রতি একটি অনলাইন মাদকবিরোধী পরামর্শ সভায় অংশগ্রহণ করেছেন। এই সভাটি প্রথম আলো ট্রাস্টের আয়োজনে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ডা. রাহেনুল ইসলাম 'শিশুদের স্কুল ভীতি : অভিভাবকের করনীয়' বিষয়ের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেন, যা অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিরাপদ আবেগের সম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুত্ব

ডা. রাহেনুল ইসলাম শিশুদের সঙ্গে নিরাপদ ও মজবুত আবেগের সম্পর্ক স্থাপনের উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, শিশু যখন কোনো ভুল করে বা বিপদে পড়ে, তখন তার প্রথমেই অভিভাবকের কাছে আসার সাহস পাওয়া উচিত। এই সম্পর্কটি এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেখানে শিশুটি নিরাপদ বোধ করে এবং সত্যি কথা বলতে উৎসাহিত হয়।

অভিভাবকদের জন্য তিনটি মূল পরামর্শ

ডা. ইসলাম শিশুদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেছেন:

  • আগে শোনা, পরে বলা: শিশু কথা বলা শুরু করলে, তাকে উপদেশ দেওয়া বা বিচারকের ভূমিকা নেওয়ার আগে ধৈর্য ধরে তার কথা শেষ পর্যন্ত শুনতে হবে। এটি শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।
  • সমমর্মিতা প্রদর্শন: শিশুর কষ্ট বা ভয়কে ছোট করে না দেখে বরং তার অনুভূতির গুরুত্ব দেওয়া উচিত। উদাহরণস্বরূপ, 'এতে কান্নার কী আছে?' এর পরিবর্তে তার অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করা প্রয়োজন।
  • ভয়হীন পরিবেশ সৃষ্টি: শিশু যেন নিশ্চিত থাকে যে, সত্যি কথা বললে তাকে শাসন করার বদলে সাহায্য করা হবে। এটি স্কুল ভীতি বা অন্যান্য সমস্যা সমাধানে সহায়ক হতে পারে।

মাদকবিরোধী আন্দোলন ও শিক্ষামূলক উদ্যোগ

এই আলোচনা প্রথম আলো ট্রাস্টের মাদকবিরোধী আয়োজনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ডা. রাহেনুল ইসলামের পরামর্শগুলি শুধু স্কুল ভীতি নয়, বরং শিশুদের সামগ্রিক মানসিক স্বাস্থ্য ও বিকাশে অভিভাবকদের সহায়তা করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন উদ্যোগ শিশুদের মাদকাসক্তি প্রতিরোধেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।