ঢাকার তুরাগে গ্যাস লাইন ছিদ্রে বিস্ফোরণ, আগুনে ১০ জন দগ্ধ
তুরাগে গ্যাস বিস্ফোরণে আগুন, ১০ জন দগ্ধ

ঢাকার তুরাগে গ্যাস লাইন ছিদ্রে বিস্ফোরণ, আগুনে ১০ জন দগ্ধ

রাজধানী ঢাকার তুরাগ থানা এলাকায় একটি বাড়িতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় একই পরিবারের ১০ জন সদস্য গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন। আজ শুক্রবার ভোররাতে কামারপাড়ার বামনারটেক এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, গ্যাসের লাইনে থাকা একটি ছিদ্র থেকে বের হওয়া গ্যাস কোনোভাবে আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরণ ঘটায়, যা পরবর্তীতে দ্রুত আগুনে রূপ নেয়।

ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার কার্যক্রম

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে একটি ফোন কলের মাধ্যমে এই ঘটনার খবর পাওয়া যায়। কলকারী জানান, বামনারটেকের একটি চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা রাফি আল ফারুকের বর্ণনা অনুযায়ী, খবর পাওয়ার পরপরই চারটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে, সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান যে প্রতিবেশীরা ইতিমধ্যেই আগুন নিভিয়ে ফেলেছেন এবং দগ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নিয়ে গেছেন।

ফলে, ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলিকে আর আগুন নেভানোর প্রয়োজন পড়েনি। দগ্ধ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাদের জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

দগ্ধদের অবস্থা ও চিকিৎসা

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, তুরাগ থেকে অগ্নিদগ্ধ ১০ জনকে আনা হয়েছে এবং তাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই দগ্ধদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছেন, যা ঘটনাটির মর্মান্তিক দিককে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। চিকিৎসকরা বর্তমানে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।

কারণ অনুসন্ধান ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

তুরাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূরে আলম সিদ্দিক সকালে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সম্ভাব্য কারণ ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, বাসাটির দ্বিতীয় তলায় গ্যাসের লাইনের একটি ছিদ্র থেকে বের হওয়া গ্যাস কোনোভাবে আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরণ ঘটায়, যা পরবর্তীতে আগুনে রূপ নেয়। এই ধারণাটি প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে করা হয়েছে, তবে বিস্তারিত তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।

এই ঘটনাটি রাজধানীতে গ্যাস লাইনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কর্তৃপক্ষ গ্যাসের লাইন নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্বের উপর জোর দিচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং দগ্ধদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।