রাজশাহীতে কর্মশালায় শিশুদের মাদক বহন থেকে রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ
শিশুদের মাদক বহন রোধে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

রাজশাহীতে শিশুদের মাদক বহন রোধে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত একটি বিভাগীয় কর্মশালায় শিশুদের মাদক বহন ও পাচার থেকে রক্ষা এবং তাদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

কর্মশালার বিষয় ও অংশগ্রহণকারী

বুধবার রাজশাহীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে “মাদক সেবন প্রতিরোধে কী করা প্রয়োজন” শীর্ষক এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগের আটটি জেলার মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রধানরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. এ এন এম বজলুর রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক ড. মুহাম্মদ শাহজাহান। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আলী আসলাম হোসেন কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন।

সমাজের ভূমিকা ও পুনর্বাসনের গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. বজলুর রশিদ সমাজের অবহেলিত যুবকদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সমাজের ভূমিকার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “একটি শিশুকে সঠিকভাবে বড় করা একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে পুনর্বাসিত করার চেয়ে সহজ।” তিনি উল্লেখ করেন যে পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলো তরুণদের মাদকাসক্তি কাটিয়ে উঠে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মাদক জব্দ ও সীমান্ত নজরদারি

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক জব্দের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় শক্তিশালী নজরদারির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

কর্মশালার অংশগ্রহণ ও প্রভাব

রাজশাহী বিভাগ জুড়ে পরিচালিত ৬১টি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রধানরা এই কর্মশালায় অংশ নেন। কর্মশালায় শিশুদের মাদকের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলোর ওপর আলোকপাত করা হয়:

  • সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি
  • শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন
  • মাদক পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা
  • পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর কার্যকারিতা উন্নয়ন

এই উদ্যোগ শিশুদের মাদকের কুপ্রভাব থেকে রক্ষা করে তাদের সুস্থ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে কর্মশালায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।