সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে, যা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে। শয্যা সংকটের কারণে একাধিক রোগীকে এক বিছানায় চিকিৎসা দিতে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকরা। অপর্যাপ্ত আইসিইউ শয্যার কারণে নিবিড় পরিচর্যাও হুমকির মুখে পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ
পরিস্থিতি মোকাবিলায় এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৩২ শয্যার হাম আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে। এছাড়া শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালেও চিকিৎসা চলছে। আইসিইউ সক্ষমতা বাড়াতে পাঁচটি নতুন শয্যা যুক্ত করা হয়েছে, ফলে সিলেটে মোট আইসিইউ শয্যা সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২টিতে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর মুনির রশিদ জানান, রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জায়গার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, শিশু ওয়ার্ডে একটি আলাদা হাম আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে যাতে নতুন রোগীদের আরও ভালোভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায়।
মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে, যার মধ্যে ২৫ জন সন্দেহভাজন এবং তিনজন নিশ্চিত হাম রোগী।
মৃত শিশুরা এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। তারা হলো সিলেট সদরের কাজলশাহ এলাকার ইকবালের সাত মাস বয়সী কন্যা ইকরা জান্নাত এবং কোম্পানীগঞ্জের লামা ডিস্কিবাড়ির শাকিল আহমদের ১০ মাস বয়সী পুত্র মারওয়ান আহমেদ।
বর্তমান পরিস্থিতি
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম বা সন্দেহভাজন হাম নিয়ে মোট ২৮৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে একা শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালেই ১২৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৫ জন সন্দেহভাজন রোগী ভর্তি হয়েছেন, আর ল্যাব পরীক্ষায় তিন শিশুর হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে ২৮০ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতালের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ
শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালকে নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে হঠাৎ রোগী সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের সক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে, ফলে রোগীদের ভিড়ের মধ্যে চিকিৎসা দিতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ক্রমবর্ধমান জটিলতা ও মৃত্যুর জন্য নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, শিশুদের টিকা না নেওয়া এবং চিকিৎসা নিতে দেরি করাকে দায়ী করছেন।



