ভারতের বিহারের সহরসা জেলার মহিষী ব্লকের বালুয়াহা মিডল স্কুলে মধ্যাহ্নভোজের (মিড-ডে মিল) খাবারে একটি সাপের বাচ্চা পাওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় এক শিক্ষার্থীর থালায় মৃত সাপের বাচ্চাটি প্রথম নজরে আসে। ততক্ষণে অনেক শিশু খাবার খেয়ে নেওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং একে একে ১৫০ জনেরও বেশি শিশু পেটে ব্যথা ও বমির উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা
অসুস্থ শিশুদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জেলা প্রশাসক (ডিএম) এই ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ দল গঠন করেছেন এবং যে এনজিওটি ওই এলাকায় খাবার সরবরাহ করে, তাদের রান্নার পরিবেশ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।
খাদ্য নিরাপত্তা নির্দেশিকা
এই ভয়াবহ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (তৎকালীন এমএইচআরডি) মিড-ডে মিল প্রকল্পের খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত কঠোর নির্দেশিকাগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দেশটির সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিশুদের খাবার পরিবেশন করার ঠিক আগে একজন শিক্ষকের সেই খাবার পরীক্ষা বা চেখে দেখা বাধ্যতামূলক এবং এর জন্য একটি নির্দিষ্ট রেজিস্টার খাতা রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। পাশাপাশি স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির একজন সদস্যকেও প্রতিদিন পর্যায়ক্রমে এই স্বাদ পরীক্ষায় অংশ নিতে বলা হয়েছে।
রান্নার মান ও তাপমাত্রা
খাবারের পুষ্টিমান বজায় রাখতে এবং সংক্রমণ রোধে খাবার রান্নার সময় অবশ্যই পাত্রের ঢাকনা ব্যবহার করা এবং পরিবেশনের সময় খাবারের তাপমাত্রা অন্তত ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বজায় রাখা জরুরি। ৫ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় জীবাণু দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে বলে রান্না শেষ হওয়ার পরপরই শিশুদের খাবার পরিবেশন করার নিয়ম রয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি
খাদ্য নিরাপত্তার এই নির্দেশিকায় রান্নাঘর ও সরঞ্জামের পরিচ্ছন্নতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা রয়েছে যে শস্য ও ডাল রান্নার আগে অবশ্যই ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে এবং শাকসবজি কাটার আগেই ধুয়ে নিতে হবে। রান্নাঘরের মেঝে এবং স্ল্যাব প্রতিদিন রান্নার আগে ও পরে পরিষ্কার করা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে কোণ এবং দেয়ালের সংযোগস্থলের মতো দুর্গম জায়গাগুলো পরিচ্ছন্ন রাখতে বলা হয়েছে। রান্নায় ব্যবহৃত কাপড়, মপ বা ব্রাশের মাধ্যমে যাতে কোনোভাবেই সংক্রমণ না ছড়ায়, সেজন্য সেগুলো ব্যবহারের পর কড়া রোদে শুকানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রান্নাঘরে যাতে কোনো ইঁদুর, পাখি বা পোকামাকড় ঢুকতে না পারে, সেজন্য জানালা ও ভেন্টিলেটরে তারের জালি ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে।
কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা
রন্ধনশিল্পী ও সহায়কদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়েও কড়া নিয়ম রয়েছে এই নীতিমালায়। কোনো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি রান্নাঘরে কাজ করতে পারবেন না এবং কর্মীদের বছরে অন্তত দুবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক। ডায়েরিয়া, বমি, জন্ডিস বা চর্মরোগের মতো লক্ষণ দেখা দিলেই সুপারভাইজারকে জানাতে হবে। অন্যদিকে, শিশুদের মধ্যে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে স্কুলের দৈনন্দিন রুটিনে একটি নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখতে বলা হয়েছে।
বিহারের এই ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সরকারি এই ৯টি মূল নির্দেশিকা যথাযথভাবে পালন করা হতো, তবে খাবারের থালায় সাপের বাচ্চার মতো মারাত্মক অবহেলার ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। এখন প্রশাসনের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে আছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।



