সিলেটে হামে আক্রান্ত শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। বৃহস্পতিবার রাতে পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে ২৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অতিরিক্ত একটি শিশু ইউনিট চালু করা হচ্ছে।
নতুন ইউনিট চালু
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর মুনীর রাশেদ জানান, শনিবার থেকে ওসমানীর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডটি হামের জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে। বর্তমানে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে হামের জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে। এ হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ১০০টি। সেখানে হামের অতিরিক্ত রোগী থাকায় রোগীরা গাদাগাদি করে ভর্তি। সিলেটে হামের রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং আরেকটি ডেডিকেটেড হাসপাতাল চালুর জোরালো দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন এ ইউনিট চালু করা হচ্ছে।
ওসমানী ও শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মৃত শিশুদের পরিচয়
বৃহস্পতিবার রাতে মারা যাওয়া তিন শিশু হলো- সিলেট নগরীর আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার আব্দুল মুমিন ও সুমি বেগম দম্পতির আট মাসের শিশুসন্তান মাহদি হাসান, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আসামপুর গ্রামের সুনু মিয়ার ছয় মাসের শিশুসন্তান মুস্তাকিন এবং রাত ১১টায় সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সাত মাস বয়সী শিশু জারা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, হামের উপসর্গ দেখা দিলে মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে মাহদিকে পিআইসিইউ-১-তে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে, শিশু মুস্তাকিনকে গত ৩ মে দুপুর ২টায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। রাত ১১টায় মৃত্যু হয় শিশু জারার।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে একই দিনে সিলেটের শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সজিবুল ইসলাম নামে এক বছরের আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। এ নিয়ে সিলেটে হাম ও হামের উপসর্গে ২৩ জনের মৃত্যু হলো।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী
সিলেট বিভাগের সহকারী স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. নুরে আলম শামীম জানান, বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৩৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯২ জন ভর্তি আছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬৬ জন নতুন সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
টিকা দেওয়ার আহ্বান
এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হেদায়েত হোসেন সারোয়ার হাম থেকে শিশুদের রক্ষায় টিকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন: 'হাম আক্রান্ত হয়ে সিলেটে এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার বেশির ভাগ আমার কর্মস্থল হাম পিআইসিইউ, সিলেট ওসমানী মেডিক্যালে। হামের সঙ্গে নিউমোনিয়া ও নানা জটিলতায় এই বাচ্চাগুলো শ্বাস নিতে না পেরে যখন ছটফট করতে থাকে, সে দৃশ্য দেখে সহ্য করা কঠিন। তাদের বাঁচাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করা ডাক্তার, নার্সদেরও অনেক কষ্ট হয়, চোখে জল আসে, তা দেখা যায় না।'
'এই রোগীগুলো কেউই হামের টিকা দেয়নি। বিগত দুই বছর হাম টিকা না দেওয়ার ফল ভোগ করছে বাংলাদেশ। হামের রোগী ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। একমাত্র টিকা দেওয়া ছাড়া এটার বিস্তার রোধে আপাতত আর কোনো বিকল্প নেই। ১০ তারিখ পর্যন্ত সবখানে, ২০ তারিখ পর্যন্ত সিলেট সিটি করপোরেশনে টিকা দেওয়া হবে। বিগত ২৮ দিনের মাঝে হামের টিকা না দেওয়া হয়ে থাকলে তাদের সবাইকে টিকা দিতে হবে। আগে দুটি বা একটি টিকা দেওয়া থাকলেও টিকা দিতে হবে।'



