ডিসি সম্মেলনে স্বাস্থ্যসহ ৪৪টি প্রস্তাব, শুরু কাল
ডিসি সম্মেলনে স্বাস্থ্যসহ ৪৪টি প্রস্তাব, শুরু কাল

আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচনার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ শনিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান।

স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্ব

এবারের ডিসি সম্মেলনে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ সম্পর্কেই সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব এসেছে। জেলা প্রশাসকেরা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ, ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণ বা মেরামত ও জনবলসহ পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ করাসহ স্বাস্থ্য খাত নিয়ে ৪৪টি প্রস্তাব দিয়েছেন। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ সম্পর্কে দেওয়া প্রস্তাবের মধ্যে আরও রয়েছে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসা বর্জ্য ও পয়ঃবজ্যের বিজ্ঞানসম্মত পরিশোধনাগার নির্মাণ, জেলা কারাগার হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ, রংপুরে এক হাজার শয্যার নতুন হাসপাতাল স্থাপন করা ইত্যাদি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য প্রস্তাব

স্বাস্থ্য খাত ছাড়াও ডিসিরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে টিআর ও কাবিখা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তার পরিবর্তে নগদ অর্থ বরাদ্দ করা, গাজীপুর জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করে শিল্প কারখানাগুলো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থানান্তর করা, নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর স্থাপন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ও গভর্নমেন্ট প্লিডার (জিপি) নিয়োগ দেওয়া। আরও প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে জেলা পর্যায়ে খাদ্যদ্রব্য পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠা করা, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে ঢাকা থেকে বিকেন্দ্রীকরণ করে জেলাভিত্তিক করা, পর্যায়ক্রমে জেলা বা উপজেলায় বিদেশি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন, জাতীয় বাজেটের সব ধরনের অর্থ ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ছাড় করা, ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক আট লেনে উন্নীত করা, চা-বাগানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, জেলাভিত্তিক দরিদ্র পরিবারের সব প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষা অবৈতনিক করা, সব শিশুর শিখন নিশ্চিত করতে একীভূত শিক্ষাক্রম ও মূল্যায়নব্যবস্থা চালু, কওমি মাদ্রাসা স্থাপনে নীতিমালা প্রণয়ন করে মাদ্রাসাগুলোকে নীতিমালার আওতাভুক্ত করা, পর্যায়ক্রমে প্রতি জেলায় ইনডোর স্টেডিয়াম স্থাপন, যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা ইত্যাদি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সম্মেলনের রূপরেখা

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সম্মেলন চলবে ৬ মে পর্যন্ত। এতে মোট ৩৪টি অধিবেশন হবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন। সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া এবার রাষ্ট্রপতি এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ডিসিরা। গতবার তা হয়নি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য বলছে, এ সম্মেলন উপলক্ষে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা সারা দেশ থেকে ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। তার মধ্যে আলোচনার জন্য ৪৯৮টি প্রস্তাব নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক সম্মেলনে সিদ্ধান্তগুলো তিন ভাগে বাস্তবায়ন করা হয়: স্বল্পমেয়াদি (এক বছর), মধ্যমেয়াদি (তিন বছর) ও দীর্ঘমেয়াদি (৫ বছর)। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৬১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত মধ্যমেয়াদি সিদ্ধান্ত ৩৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে।

দিনভিত্তিক কর্মসূচি

প্রথম দিনে (৪ মে) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেবেন বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা। এদিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওতাধীন সংস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং আইন মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনা হবে। প্রথম দিনের অধিবেশন শেষে ডিসিরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। দ্বিতীয় দিনে (৫ মে) অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ-সম্পর্কিত আলোচনা হবে। এ ছাড়া এদিন জাতীয় সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন ডিসিরা। তৃতীয় দিনে (৬ মে) সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কে আলোচনা হবে। একই দিনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ভবনে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ডিসিরা। এদিন নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনার কথা রয়েছে। শেষ দিনে (৭ মে) স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা হবে। এদিন রাতে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ডিসিসহ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাতের খাবার খাবেন।