মালাইকা অরোরা। ইনস্টাগ্রাম থেকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে মালাইকা–ম্যাজিকে বুঁদ হয়ে আছে বলিউড। কখনো ‘ছঁইয়া ছঁইয়া’ তো কখনো আবার ‘মুন্নি’র তালে মালাইকা অরোরা তাঁর আবেদনময়ী রূপে পর্দায় ঝড় তুলেছেন। বয়স পঞ্চাশের গণ্ডি পার হলেও মালাইকার গ্ল্যামারের আগুন যে কমেনি, তা বোঝা গেছে গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘পয়জন বেবি’ আইটেম গানেই। মালাইকার ফিটনেস আর সৌন্দর্য বরাবরই আলোচনায় থাকে। ৫২ বছর বয়সেও কীভাবে নিজেকে এত ফিট রাখেন, এই প্রশ্নের একাধিকবার সম্মুখীন হয়েছেন মালাইকা। সম্প্রতি একটি টক শোতে বয়সের সঙ্গে সৌন্দর্যের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি।
বয়স নিয়ে ভাবনা
‘দ্য রাইট অ্যাঙ্গেল শো’তে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ফিটনেস আর সৌন্দর্যের প্রশংসার মধ্যে কখনো বয়স বাড়ার বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে ভেবেছেন? উত্তরে মালাইকা বলেন, ‘একটা সময় ছিল, যখন আমি বয়স নিয়ে ভাবতাম। আবার আমার জীবনে এমন সময়ও এসেছে, যখন আমি এ বিষয়টা নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবিনি। শুধু নিজের কাজটা উপভোগ করি। যেটা করতে ভালো লাগে বা ভালোবাসি, সেটাই করি। আমার মনে হয়, এ মুহূর্তে আমি জীবনের সবচেয়ে সুখী অধ্যায় উদ্যাপন করছি। জীবনে এখনো অনেক কিছু করা বাকি আছে। অনেক কিছু করতে চাই, তাই এসব বিষয় এখন আর আমাকে বিশেষ প্রভাবিত করে না।’
সমাজের বৈষম্যের বিরোধিতা
সাধারণ কোনো নারী হোক বা সেলিব্রিটি, মেয়েদের বয়সের সঙ্গে তাঁদের জীবনের গতিপথের তুলনা করা হয়। কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে সেটা কখনোই হয় না। সমাজের এই বৈষম্যের বিরোধিতা করেছেন মালাইকা। তাঁর মতে, একজন নারীকে যেমন অকপটে তাঁর বয়স নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, পুরুষদেরও সেই প্রশ্ন অবশ্যই করা উচিত। মালাইকার মতে, ‘আমি মনে করি এই প্রশ্নগুলো সব সময় নারীদেরই করা হয়। খুব কমই কোনো পুরুষকে এভাবে জিজ্ঞেস করা হয়। একজন নারীকে খুব সহজেই বলা হয়, তোমার জীবনের সেরা সময়ে তুমি এমন ছিলে, এখন এই বয়সে এসে কেমন লাগছে? তুমি কি এখনো নিজেকে সুন্দর মনে করো? আকর্ষণীয় মনে করো? কখনো শুনিনি কোনো পুরুষকে এই ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছে।’
মানসিক ও আবেগের দিক গুরুত্বপূর্ণ
বয়স বা সংখ্যার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষের ভাবনা, এমনটাই মনে করেন মালাইকা। অভিনেত্রীর সংযোজন, ‘বাহ্যিক সৌন্দর্যই শেষ কথা নয়। হ্যাঁ, পৃথিবী সেটাই দেখে, কিন্তু এর সঙ্গে মানসিক ও আবেগের দিকটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার পর সারা দিন কীভাবে কাটবে, আজ মন কী চাইছে—এগুলো আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আয়নার দিকে তাকিয়ে ভাবি না যে আমাকে দেখতে কেমন লাগছে। এমন কিছু করতে চাই যে আমাকে, আমার পরিবারকে অনুপ্রাণিত করবে, গর্বিত করবে।’
হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে



