বাজেটে তামাকপণ্যে কঠোর কর নীতি প্রয়োগের দাবি
বাজেটে তামাকপণ্যে কঠোর কর নীতি প্রয়োগের দাবি

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর কর আরোপ ও মূল্য বৃদ্ধির জন্য কঠোর কর নীতি প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সিরডাপ অডিটোরিয়ামে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোটার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) যৌথ আয়োজিত ‘আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের গুরুত্ব’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তারা এ দাবি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্য

সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ব স্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি বলেন, বাংলাদেশে তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা তরুণ ও নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বিরাট হুমকি। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ক্ষতি কমাতে তামাকপণ্যের দাম কেবল বাড়ালেই হবে না, বরং তা অবশ্যই মূল্যস্ফীতি ও মানুষের আয় বৃদ্ধির তুলনায় বেশি হতে হবে।

মূল প্রবন্ধে তথ্য

মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর শরিফুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বিগত ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তামাকপণ্য ও নিত্যপণ্যের দামের তারতম্য তুলনা করলে দেখা যায়, এ সময়ে চিনির দাম বেড়েছে ৮৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ, আলুর দাম বেড়েছে ৮৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ, আটার দাম বেড়েছে ৭৫ দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ, প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোক্তা মধ্যম স্তরের সিগারেটের, সেটির দাম বেড়েছে সবচেয়ে কম; অর্থাৎ নিত্যপণ্যের তুলনায় সিগারেট আরও সস্তা হয়ে পড়ছে প্রতিনিয়ত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রস্তাবিত কর কাঠামো

তিনি জানান, বর্তমানে বাজারে নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ ও অতি উচ্চ- এই চার স্তরের সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। আসন্ন অর্থবছরে নিম্ন ও মধ্যম- এই দুটি স্তরকে একত্রিত করে নতুন তিন স্তরের সিগারেটের ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম যথাক্রমে ১০০ টাকা, ১৫০ টাকা ও ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং সব স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

আলোচনায় অংশগ্রহণ

বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান, বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল, বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। বক্তারা তামাকপণ্যের কর বৃদ্ধির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।