রাজধানীর আজিমপুরের ছোটমণি নিবাসে এক বছরের একটু বেশি বয়সী আরিশা নামের এক শিশু হাম ও নিউমোনিয়ায় মারা গেছে। বৃহস্পতিবার বেলা একটার পর তার মৃত্যু হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মৃত্যুসনদে বলা হয়েছে, আরিশাকে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল। মৃত্যুসনদে পুলিশ কেসের সিল থাকায় তদন্ত শেষে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হবে। বর্তমানে তার লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ছোটমণি নিবাসের পরিচিতি
আরিশা সমাজসেবা অধিদপ্তরের ছোটমণি নিবাসের শিশু ছিল। এই নিবাসে পিতৃ-মাতৃ পরিচয়হীন ০-৭ বছর বয়সী পরিত্যক্ত বা পাচার থেকে উদ্ধার করা শিশুদের লালন-পালন করা হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা ও বরিশালে মোট ছয়টি ছোটমণি নিবাস রয়েছে, যার আসনসংখ্যা ১০০ করে মোট ৬০০টি। আরিশার মৃত্যুসনদে নামের পাশাপাশি ঠিকানায় লেখা হয়েছে 'নিবাসী শিশু'। রাজবাড়ীর পাংশা থেকে তাকে উদ্ধার করে নিবাসে পাঠানো হয়েছিল, তখন তার বয়স ছিল এক মাসের মতো।
ঘটনার বিবরণ
ছোটমণি নিবাসের উপতত্ত্বাবধায়ক মোছা. জুবলী বেগম জানান, আরিশার কোনো পরিবার বা দাবিদার না থাকায় পুলিশি কেস হয়েছে। তদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হবে। তিনি বলেন, আরিশাকে নিবাসে আনার পর থেকেই তার মাথা বড় ছিল এবং সে দুর্বল ছিল। গত রোববার থেকে জ্বর-কাশি দেখা দেয়। রোববারই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসক ওষুধ দিলে তা খাওয়ানো হচ্ছিল। আজ আরিশা ঘুম থেকে ওঠার পর ফিডারে দুধ দেওয়া হলে একটু খাওয়ার পরই সে অস্থির হয়ে পড়ে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।
অন্যান্য শিশুর অবস্থা
শুধু আরিশা নয়, নিবাসের অন্য শিশুদের নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাঁচ মাস বয়সী মেহেদির হাম এবং তিন বছর বয়সী নিশিতার জলবসন্ত হয়েছে। তাদের মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া চারটি ছেলে ও ছয়টি মেয়েশিশুর শরীরে হাম ও জলবসন্তের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। তাদের সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ও ডিএনসিসি হাসপাতালে ভর্তির প্রক্রিয়া চলছে।
২০২২ সালের ১৬ জুলাই ময়মনসিংহের ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় ফাতেমার বাবা-মা ও বোন নিহত হওয়ার পর সড়কে জন্ম নেওয়া ফাতেমাও এই নিবাসে বড় হচ্ছে। তারও হাম হয়েছিল, তবে নিবাসে থেকেই সে সুস্থ হয়েছে বলে জানান জুবলী বেগম।



