তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের আগ্রাসী বিপণন কৌশলের কারণে শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে আসক্তির ঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)। বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে সংস্থাটি তরুণদের সুরক্ষায় ই-সিগারেট, ভেপিং ও অন্যান্য নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
তামাক কোম্পানির বিভ্রান্তিকর প্রচারণা
শনিবার (৩০ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রজ্ঞা জানায়, তামাক ও নিকোটিন কোম্পানিগুলো নতুন মোড়ক, আকর্ষণীয় নকশা ও আগ্রাসী প্রচারণার মাধ্যমে তামাকপণ্যকে তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলছে। বিশেষ করে ই-সিগারেট, ভেপিং ডিভাইস, নিকোটিন পাউচসহ নতুন প্রজন্মের পণ্যগুলোকে ‘নিরাপদ’ বা ‘কম ক্ষতিকর’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর।
আইনে ফাঁকফোকর
সংস্থাটির মতে, সম্প্রতি পাস হওয়া ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬ তামাক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্য নিষিদ্ধের বিধান আইন থেকে বাদ পড়ায় তরুণদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষতি
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশে প্রায় তিন কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করে। তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব আয়ের দ্বিগুণেরও বেশি।
প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালকের বক্তব্য
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে এক প্রতিক্রিয়ায় প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, “তামাক ও নিকোটিন আসক্তির ফাঁদ থেকে তরুণদের সুরক্ষায় ই-সিগারেট ও ভেপিংসহ সব নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
সুপারিশ
প্রজ্ঞা মনে করে, তামাকমুক্ত প্রজন্ম গড়তে সদ্য পাস হওয়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ মোকাবেলায় নীতিমালা গ্রহণ এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটে সবধরনের তামাকপণ্যের কর ও দাম কার্যকরভাবে বাড়িয়ে তরুণদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে।



