ফরিদপুরে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েই চলেছে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত মোট ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকে শুক্রবার (২৯ মে) সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই দুই শিশু মারা যায় বলে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃত শিশুদের মধ্যে ৯ মাস বয়সী শিশু আয়ান রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাটিপাড়া এলাকার রেজাউল হোসেনের ছেলে এবং ৩ মাস বয়সী শিশু আব্দুল্লাহ ফরিদপুর সদর উপজেলার হারুকান্দি এলাকার মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের ছেলে।
নতুন আক্রান্ত ও সুস্থতা
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে আরও ৩০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৩ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের জোরালো ব্যবস্থা
সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান আরও জানান, হাম প্রতিরোধে জেলার সব হাসপাতালে বিশেষ চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তিনি অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত আক্রান্ত শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘হামের লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্ত দেরি না করে নিকটস্থ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং একই সঙ্গে সরকারি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সব শিশুকে নিয়ে আসতে হবে।’
শিশু বিশেষজ্ঞের সতর্কতা
ফরিদপুরের প্রখ্যাত শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আব্দুল্লাহ সায়াদ এই রোগের লক্ষণ সম্পর্কে বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের অনেকেই তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে দানা, শ্বাসকষ্ট ও চরম শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, অত্যন্ত দেরিতে হাসপাতালে আনার কারণে শিশুদের শারীরিক জটিলতা অনেক বেশি বাড়ছে, যা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়।
সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার
এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ফরিদপুরে হামের এই মারাত্মক বিস্তার রোধে সর্বাত্মক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ টিকাদান এবং প্রচারণামূলক কার্যক্রম জোরালোভাবে চালানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।



