স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ হোসেন বলেছেন, আগের সরকার কোনো ভেন্টিলেটর বা হামের টিকা রেখে যায়নি; স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নতুন করে গড়তে হয়েছে। শুক্রবার ঢাকার মহাখালীতে ডিএনসিসি কোভিড-১৯ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
শুরু করতে হয়েছে খালি হাতে
মন্ত্রী বলেন, 'আগের সরকার আমাদের জন্য একটি ভেন্টিলেটর বা একটি হামের টিকাও রেখে যায়নি। আমরা খালি হাতে শুরু করেছি।' তিনি জানান, গ্যাভি, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশের দ্রুত টিকা সংগ্রহের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দিয়েছে।
চিকিৎসকদের প্রশংসা
শেখ হোসেন বলেন, 'আমাদের চিকিৎসকরা খুব কঠোর পরিশ্রম করছেন।' তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এখন সব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভেন্টিলেটর স্থাপন করা হয়েছে। 'আলহামদুলিল্লাহ, আমরা প্রতিটি জায়গায় ভেন্টিলেটর দিতে সক্ষম হয়েছি।'
নতুন আইসিইউ ইউনিট
আগামী মঙ্গলবার ১০ জেলায় ১০টি নতুন আইসিইউ ইউনিট চালু হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, 'এর পাশাপাশি আমরা প্রতিটি জায়গায় ১২টি ভেন্টিলেটর এবং একটি করে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর দিচ্ছি, যাতে আরও বেশি সেবা দেওয়া যায়।'
শিশু স্বাস্থ্য ও ভিটামিন এ
শিশু স্বাস্থ্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশে বা আন্তর্জাতিকভাবে কোনো চিকিৎসা আটকে রাখা হচ্ছে না, তবে অপুষ্টি একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, 'আমরা অতীতের সমালোচনা করতে চাই না, কিন্তু শিশুদের বছরে দুবার ভিটামিন এ দেওয়ার কথা। ২০২৪ সালে এটি মাত্র একবার দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে কোনো ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন হয়নি; আমরা এখন শুরু করেছি।'
তিনি জানান, ১০ জুনের মধ্যে ইউনিসেফ থেকে বাংলাদেশে ভিটামিন এ ক্যাপসুলের একটি বড় চালান আসবে এবং তারপর দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন শুরু হবে।
পুষ্টি চ্যালেঞ্জ
মন্ত্রী আরও বলেন, কম বুকের দুধ খাওয়ানো এবং অপর্যাপ্ত মাতৃ পুষ্টি সহ পুষ্টির বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। 'সিজারিয়ান ডেলিভারির ক্ষেত্রে মায়েদের শালদুধ দেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন কারণে শিশুরা সঠিক পুষ্টি নিয়ে বেড়ে উঠতে পারছে না, তাই হাম বেশি আক্রমণ করছে।'
তিনি নিজের শৈশবের হামের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, 'আমারও হাম হয়েছিল। আগে গ্রামে মানুষ হামকে জলবসন্তের বড় ভাই বলত। কিন্তু এখন হাম ভিন্ন রূপ নিয়েছে।'



