বান্দরবানের আলীকদমে হামের উপসর্গজনিত ডায়রিয়া নিয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত গৃহবধূর নাম সংপ্রং ম্রো (১৮)। তিনি উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দওলাপাড়ার বাসিন্দা।
কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সংপ্রং ম্রোর কয়েক দিন আগে বিয়ে হয়েছিল। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাঁর জ্বর ও হালকা কাশি শুরু হয়। কিন্তু দুর্গম এলাকায় সড়ক ও মুঠোফোন যোগাযোগ না থাকায় পাড়াবাসী তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসেননি। বৃহস্পতিবার রাত থেকে জ্বরের সঙ্গে ডায়রিয়া হওয়ায় দ্রুত তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে শুক্রবার সকালে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি
আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. হানিফ বলেন, জ্বর ও ডায়রিয়া আক্রান্ত সংপ্রং ম্রোকে মুমূর্ষু অবস্থায় সকালে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। হামের উপসর্গজনিত ডায়রিয়া হওয়ায় পানিশূন্যতা ও শারীরিক দুর্বলতায় তাঁর মৃত্যু হয়।
হামের উপসর্গ নিয়ে উপজেলায় মৃত্যুর সংখ্যা এটিই প্রথম নয়। গতকাল একই ইউনিয়নের হামের উপসর্গ নিয়ে এক বছরের শিশু তুমরাও ম্রোর মৃত্যু হয়। সরকারি হিসাবে উপজেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবীদের দাবি, হামের উপসর্গ নিয়ে উপজেলায় মৃত্যুর সংখ্যা সাত। তাদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে, একজন হাসপাতালে আনার পথে ও চারজনের বাড়িতে মৃত্যু হয়েছে।
দুর্গম এলাকায় চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম
মার্চের শেষ দিকে আলীকদম উপজেলার মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নে হামের উপসর্গের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। দুর্গম এলাকা থেকে রোগীদের হাসপাতালে আনা–নেওয়ার কাজ করছে ‘ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশন’ নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটির সভাপতি সেথং ম্রো বলেন, কুরুকপাতা ইউনিয়নে ম্রো জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগ মানুষ দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকায় বসবাস করেন। দেড় মাস ধরে স্বাস্থ্য বিভাগ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করলেও এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁদের তথ্য রয়েছে।
আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গের ৬৮ জনসহ মোট ৯৪ রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। শ্বাসকষ্টসহ গুরুতর অবস্থায় থাকা সাতজনকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সিভিল সার্জন শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, সরকারি হিসাবে আলীকদমে হামের উপসর্গে গৃহবধূসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি নেই। ৩১ শয্যার হাসপাতালে ধারণক্ষমতার প্রায় তিন গুণ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।



