পাইকগাছার আলমশাহী পুকুর: লবণাক্ত তিন উপজেলার সুপেয় পানির একমাত্র উৎস
পাইকগাছার আলমশাহী পুকুর: সুপেয় পানির একমাত্র উৎস

খুলনা জেলার লবণাক্ত তিন উপজেলা—পাইকগাছা, দাকোপ ও কয়রা—এর খাওয়ার পানির একমাত্র উৎস হলো পাইকগাছার গড়ইখালী এলাকায় অবস্থিত আলমশাহী পুকুর। আট বিঘা জমিতে নির্মিত এই প্রাচীন পুকুরটি চারপাশে উঁচু পাড় ও পাকা প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত। এখান থেকেই হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন তাদের খাওয়ার পানি সংগ্রহ করেন।

প্রতিদিনের পানি সংগ্রহ ও সরবরাহ

প্রতিদিন ভোর থেকে রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত অসংখ্য নারী-পুরুষ এ পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করেন। উপকূলীয় এলাকায় চারদিকে পানি থাকলেও তা সবই লবণাক্ত, ফলে সুপেয় পানির তীব্র অভাব রয়েছে। এই পুকুরের পানি সরবরাহ করে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন। প্রতিদিন ১৩টি নসিমন ও ৩০ থেকে ৪০টি ব্যাটারিচালিত ভ্যান এবং নদী পথে কয়েকটি ট্রলারযোগে বাড়ি বাড়ি পানি পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রতি ড্রাম পানির দাম ২০ টাকা, যা এসব নসিমন ও ভ্যানচালকের আয়ের বড় উৎস।

বিকল্প উৎসের ব্যর্থ প্রচেষ্টা

গড়ইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম কেরু জানান, সরকারি ও বেসরকারিভাবে এ পুকুরের বিকল্প মিষ্টি পানির উৎস খোঁজার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। তাই উপকূলের মানুষের জন্য এ পুকুরের পানিই একমাত্র ভরসা। দাকোপ উপজেলার গুনালি, নলিয়ান, কামনেবাসি, সুতারখালী, কালীবাড়ী; পাইকগাছার সোলাদানা ইউনিয়নের বেতবুনিয়া, খাটুয়ামারী, বয়ারঝাপা, গড়ইখালী ইউনিয়নের গড়ইখালী, বাসাখালী, মিনহাজ, হোগলারচক, বাইনবাড়িয়া, কুমখালী, শান্ত, ফকিরাবাদ, গাংরখি, লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া, আলমতলা এবং কয়রা উপজেলার হড্ডা গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এই পুকুরের পানি পান করে জীবন ধারণ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এনজিওর ফিল্টার প্রকল্প

একটি এনজিও আলমশাহী পুকুরের পাশে ফিল্টার বসিয়ে গড়ইখালী ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ডের ৩৬টি পয়েন্টে পানি সরবরাহ করছে। সেখান থেকে এলাকার গৃহবধূরা পানি সংগ্রহ করেন। এসব পয়েন্টের কেয়ারটেকার আরিফা খাতুন জানান, দূরের লোকের পানি নেওয়ার চাপ থাকায় এ পয়েন্টগুলো বসানো হয়েছে।

সরকারি উদ্যোগ

পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, লবণাক্ততা ও আয়রনের পরিমাণ বেশি থাকায় চারিদিকে পানি থাকলেও সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে। যা সমাধানে সরকার বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য ট্যাংক প্রদানসহ বিভিন্ন সময় নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত আলমশাহী পুকুরই এলাকার মানুষের জন্য সুপেয় পানির প্রধান ও একমাত্র উৎস হিসেবে রয়ে গেছে।