হৃদরোগের আগে এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন: উপেক্ষা করবেন না
হৃদরোগের পূর্বলক্ষণ এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন

হৃদরোগ হঠাৎ করে আসে না, বরং তার আগে একটি বিশেষ অবস্থা তৈরি হয়, যা জানান দেয় যে হার্টের অবস্থা খারাপ হতে চলেছে। গবেষণা বলছে, ধমনিতে চর্বি জমার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির আগেই রক্তনালির ভেতরের আস্তরণ বা ‘এন্ডোথেলিয়াম’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন’ বলা হয়।

এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন কী?

এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন কোনো রোগ নয়, বরং হৃদরোগ হওয়ার আগের একটি পর্যায়। এটি ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকের পূর্বাভাস দিতে পারে। শরীরের রক্তনালির ভেতরে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি আস্তরণ থাকে, যাকে এন্ডোথেলিয়াম বলে। এর কাজ হলো রক্তনালিকে সুরক্ষা দেওয়া, সঙ্কোচন-প্রসারণে সাহায্য করা এবং রক্ত চলাচলের পথ সুগম রাখা।

কেন হয় এই অবস্থা?

উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, উচ্চ কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিসের কারণে রক্তনালিতে নাইট্রিক অক্সাইডের পরিমাণ কমে যায়। নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালিকে নমনীয় রাখতে সাহায্য করে। যখন এর উৎপাদন কমে যায়, তখন রক্তনালি শক্ত ও সরু হয়ে পড়ে, প্রদাহ বাড়ে এবং রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এই অবস্থাই মূলত হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক সতর্কবার্তা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গবেষণার গুরুত্ব

সাম্প্রতিক গবেষণায় হৃদরোগের পূর্বলক্ষণ বুঝতে এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ, হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই বিষয়ে গবেষণা করছেন। তারা জানাচ্ছেন, এন্ডোথেলিয়াম স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর নিচে চর্বি, কোলেস্টেরল ও অন্যান্য পদার্থ জমে প্লাক তৈরি হয়। এতে ধমনির পথ সংকীর্ণ হয়ে ব্লকেজ সৃষ্টি হয়, যা থেকে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঝুঁকি বাড়ায় যেসব কারণ

রক্তে কোলেস্টেরল বেশি থাকলে এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশনের ঝুঁকি বাড়ে। ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকায় তাদের এন্ডোথেলিয়াম স্তর দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ধূমপানের ফলে নিকোটিন ও অন্যান্য রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করে এন্ডোথেলিয়াম স্তরে ক্ষত সৃষ্টি করে, যা রক্তনালিকে সঙ্কুচিত করে। তাই চিকিৎসকরা বলেন, অত্যধিক ধূমপান হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

সতর্ক থাকুন

এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশনের লক্ষণগুলো উপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়াম হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।