পর্তুগালে ৩০ হাজার ফুট উচ্চতায় পাইলটের হার্ট অ্যাটাক, জরুরি অবতরণ
পর্তুগালে পাইলটের হার্ট অ্যাটাকে জরুরি অবতরণ

পর্তুগালের আকাশে ৩০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড্ডয়নের সময় হঠাৎ করে প্রধান পাইলট হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এই ঘটনায় প্রায় ২২০ জন যাত্রী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী বিমানকে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে পর্তুগালের পোর্তো শহরে।

কীভাবে ঘটলো এই ঘটনা?

গত শুক্রবার (২২ মে) ভোরে জেট২ এয়ারলাইন্সের ‘এলএস১২৬৬’ ফ্লাইটটি টেনেরিফ থেকে বার্মিংহামের দিকে যাচ্ছিল। বিমানটি যখন ৩০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল, ঠিক তখনই পাইলট অসুস্থ বোধ করেন। এরপরই উড়োজাহাজটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে এবং পর্তুগালের পোর্তো শহরের ফ্রান্সিসকো সা কার্নিরো বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেট্রো ইউকে ও দ্য সানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যাত্রীদের অভিজ্ঞতা

বিমানের যাত্রীরা সেই মুহূর্তের এক থমথমে পরিস্থিতির বিবরণ দিয়েছেন। তারা জানান, হুট করেই কেবিন ক্রুরা বিমানের করিডোর দিয়ে তাড়াহুড়ো করে ছুটোছুটি শুরু করেন এবং যাত্রীদের মধ্যে কোনো চিকিৎসক বা চিকিৎসা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কেউ আছেন কিনা, তা জানতে চান। দ্রুত নিচে নামার সময় বিমানের ভেতরের আলো দপদপ করছিল এবং আচমকা উচ্চতা কমতে থাকায় বেশ কিছু শিশু ভয়ে কাঁদতে শুরু করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় সময় রাত ২টা ১১ মিনিটে বিমানটি পোর্তো বিমানবন্দরে অবতরণ করার সঙ্গে সঙ্গেই জরুরি উদ্ধারকারী দল ভেতরে প্রবেশ করে। চিকিৎসকেরা ককপিটের ভেতরেই পাইলটকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

দ্য সান-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক যাত্রী বলেন, “আমি আর আমার সঙ্গী ঘুমাচ্ছিলাম, হঠাৎ বিশৃঙ্খলার শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। বিমানের ভেতরের আলোগুলো জ্বলছিল আর নিভছিল। বিমানবালারা বেশ আতঙ্কিত ছিলেন এবং ডাক্তার খুঁজছিলেন। আমাদের দুই বছরের সন্তানসহ বিমানের অন্য শিশুরাও কান্নাকাটি শুরু করে, কারণ জরুরি অবতরণের জন্য বিমানটি খুব দ্রুত নিচে নামছিল।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরবর্তী ঘটনা

বিমানটি অবতরণের পর যাত্রীদের প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ভেতরেই বসে থাকতে হয়। এরপর তাদের নামিয়ে টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রায় ১৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় তাদের। পরবর্তীতে জেট২ এয়ারলাইন্স ম্যানচেস্টার থেকে একজন বিকল্প পাইলট উড়িয়ে নিয়ে আসে এবং যাত্রীরা অন্য একটি বিমানে করে বার্মিংহামের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

ক্ষুব্ধ এক যাত্রী বলেন, “আমাদের কোনো থাকার জায়গা না দিয়েই পর্তুগালে ১৩ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রাখা হয়েছিল। এমনকি বিমান থেকেও এক ঘণ্টার আগে নামতে দেওয়া হয়নি। এরপর আমাদের টার্মিনালে ছেড়ে দেওয়া হয়। থাকার মতো কোনো জায়গা ছিল না। তারা বলল হোটেল বুকিং করা নাকি অনেক ব্যয়বহুল।”

তবে পাইলটের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এয়ারলাইন্স আমাদের জানিয়েছে ককপিটে পাইলটের হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। অবশ্যই তার প্রতি আমাদের পূর্ণ সহানুভূতি রয়েছে।”

এয়ারলাইন্সের বিবৃতি

এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা কখনোই বিঘ্নিত হয়নি। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঝামেলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে জেট২। দ্য সান-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে এয়ারলাইন্সটি জানায়, “টেনেরিফ থেকে বার্মিংহামগামী এলএস১২৬৬ ফ্লাইটটি একজন পাইলট অসুস্থ বোধ করায় বৃহস্পতিবার (২১ মে) পোর্তো অভিমুখে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। কোনো অবস্থাতেই যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েনি এবং পরবর্তীতে তারা তাদের গন্তব্যে পৌঁছান। এই অপ্রত্যাশিত বিলম্বের জন্য আমরা গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।”