ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যু ও ভর্তি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ৩২ শিশু ভর্তি হয়েছে, যা বর্তমানে চিকিৎসাধীন শিশুদের সংখ্যা ৭৪-এ নিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন মৃত্যু ও ভর্তির বিস্তারিত তথ্য
মৃত শিশুটির নাম আয়াত, বয়স মাত্র ৯ মাস। সে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার বুলবুল মিয়ার ছেলে। গত ১১ এপ্রিল হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর, চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সোমবার রাত ৭টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার সকাল আটটা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নতুন করে ৩২ শিশু ভর্তি হয়েছে।
মার্চ থেকে চলমান পরিসংখ্যান
গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৪৫৭টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭০ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে আরও ৩৩টি শিশু, যা কিছুটা স্বস্তির খবর বয়ে আনলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে হামের লক্ষণ নিয়ে এক-দুজন করে শিশু ভর্তি হতে শুরু করে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে, যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে তোলে। রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে ক্রমাগত চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, "গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং এ সময়ে নতুন আরও ৩২ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি রোগীদের সেবা দিতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে।" তার এই বক্তব্য হাসপাতালের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটায়, কিন্তু প্রাদুর্ভাব রোধে আরও জোরদার পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
এই ঘটনা শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকা কর্মসূচির গুরুত্ব এবং দ্রুত চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ কামনা করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যায় এবং শিশুদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়।



