লক্ষ্মীপুরে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের মৃত্যু: ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে ছাদ থেকে লাফ
লক্ষ্মীপুরে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের মৃত্যু, ছেলেসহ তিনজন আহত

লক্ষ্মীপুরে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের মৃত্যু: ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে ছাদ থেকে লাফ

লক্ষ্মীপুরে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে, যিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে একটি তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিয়েছিলেন। আজ সোমবার সকালে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পেশকার বাড়ি এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় নাছির আহমদ (৫৫) নামের ওই ব্যক্তিকে। পরে তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

নাছির আহমদ কনস্টেবল হিসেবে পুলিশে কর্মরত ছিলেন এবং গত বছরের ১ আগস্ট অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর সর্বশেষ কর্মস্থল ছিল লক্ষ্মীপুর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর ধরে তিনি স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে নিয়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পেশকার বাড়ির প্রবাসী মোহনের ভবনে ভাড়া থাকতেন। অবসরে যাওয়ার পর তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন বলে জানা যায়।

ঘটনার দিন সকালে, নাছির আহমদ তাঁর কলেজপড়ুয়া ছেলে ইমরান হোসেন (২১)কে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। আহত অবস্থায় ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে পালানোর চেষ্টা করলে নাছির তাঁকে ধাওয়া দেন। এ সময় মিজানুর রহমান ও নাসির আহমদ নামে দুই প্রতিবেশী দা হাতে থাকা নাছিরকে আটকাতে গেলে তাদেরও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছাদ থেকে লাফ ও উদ্ধার অভিযান

ঘটনার এক পর্যায়ে, নাছির আহমদ হাতে দা নিয়ে তিনতলা ভবনটির ছাদে উঠে নিচে লাফ দেন। এরপর তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় দা হাতে বসে ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় বিষয়টি জানিয়ে আহত অন্য তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে পুলিশের একটি দল এসে নাছির আহমদকেও উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অরূপ পাল জানান, 'আহত চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে ওই অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।'

পুলিশের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, 'আমরা যতটুকু শুনেছি নাছির আহমদ মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের আলোকে এ ঘটনার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' নাছির আহমদের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার এখলাসপুর গ্রামে। তাঁর দুই ছেলের একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী, এবং সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী ওই ছেলেকে নিয়ে চাঁদপুরে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন, যা ঘটনার সময় ঘরে কেবল নাছির ও তাঁর কলেজপড়ুয়া ছেলে ইমরান হোসেন ছিলেন বলে জানা গেছে।

এই ঘটনা লক্ষ্মীপুরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং স্থানীয়রা মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার গুরুত্বের উপর জোর দিচ্ছেন। পুলিশ এখন ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে এবং আহতদের চিকিৎসা চলছে।