ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের সঙ্গে ঢামেক চিকিৎসকদের বৈঠক অনুষ্ঠিত
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সংঘটিত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছে। উপাচার্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বুধবারের ঘটনার জন্য উপাচার্য ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।
বৈঠকে উপস্থিতি ও আলোচনার মূল বিষয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৈঠকে ঢাবি চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নাদিম আহমেদ এবং স্নাতকোত্তর চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষণা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আহমেদ সামি আল হাসানের নেতৃত্বে চিকিৎসকেরা অংশ নেন। আলোচনায় সবাই একমত হন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ একই পরিবারের সদস্য। দেশের ঐতিহ্যবাহী এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। দেশ ও জাতির কল্যাণে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।' তিনি আরও যোগ করেন যে, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ধৈর্য, সহনশীলতা ও সংযমের মাধ্যমে একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে হবে এবং বুধবারের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
ঘটনার পটভূমি ও উত্তেজনা
এর আগে, গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর মধ্যে হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষের ফলে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং চিকিৎসকেরা জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের শিক্ষার্থী সানিম (২৩) জ্বর ও পেটব্যথা নিয়ে জরুরি বিভাগে যান। দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা করে একটি ওষুধ লিখে বাইরে থেকে কিনতে বলেন। সানিমের অভিযোগ, আশপাশের ফার্মেসিতে ওষুধটি না পেয়ে তিনি বিকল্প ওষুধের অনুরোধ করলে চিকিৎসক তাঁর সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং স্কেল দিয়ে মারার চেষ্টা করেন।
এরপর সানিম অমর একুশে হলে গিয়ে আরও সাত-আটজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে হাসপাতালে ফিরে আসেন এবং তাঁরা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে ওই চিকিৎসককে টানাহেঁচড়া করা ও তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ওই চিকিৎসক বাইরে বের হওয়ার সময় আবারও ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে চিকিৎসকেরা কাজ ফেলে ওয়েটিং রুমে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও সমাধানের দিকনির্দেশনা
বৈঠকের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার একটি পথ তৈরি হয়েছে। উপাচার্যের নেতৃত্বে এই সাক্ষাৎটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা কমানো এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি বিবেচনা করা যেতে পারে:
- দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানো।
- চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া উন্নত করার জন্য কর্মশালা আয়োজন।
- জরুরি বিভাগে সেবার মানোন্নয়ন এবং ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা।
- সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটলে দ্রুত মধ্যস্থতা ও সমাধানের ব্যবস্থা করা।
এই ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিলেও, উপাচার্য ও চিকিৎসক প্রতিনিধিদলের বৈঠক আশার আলো দেখাচ্ছে। দেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে একসাথে কাজ করা ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



