কিশোরগঞ্জে সৎমার নির্মম নির্যাতনে তিন বছরের শিশু হাসপাতালে
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় সৎমার পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তিন বছরের শিশু সোহা মনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে লোহাজুরী ইউনিয়নের উত্তর লোহাজুরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সৎমা মরিয়ম পলাতক রয়েছেন, পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে।
ঘটনার পটভূমি ও নির্যাতনের বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটির গর্ভধারিণী মা কিছুদিন আগে দুটি সন্তান রেখে স্বামীর সংসার ছেড়ে চলে যান। এর ফলে বাবা সাইফুল ইসলাম দুই শিশু সন্তান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। সংসারে স্থিতি ফেরাতে প্রায় সাত মাস আগে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বড় মেয়ে নানার বাড়িতে থাকলেও ছোট মেয়ে সোহা মনি বাবার সঙ্গেই বসবাস করত।
ঘটনার রাতে বৃষ্টির কারণে সাইফুল ইসলাম বাজার থেকে বাড়ি ফিরতে দেরি হলে, সৎমা মরিয়ম নিষ্ঠুরভাবে শিশুটির ওপর নির্যাতন চালান। তিনি লাঠি দিয়ে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করে শিশুটিকে গুরুতর জখম করেন। রাতে বাড়ি ফিরে মেয়ের হৃদয়বিদারক কান্না শুনে বাবা বিষয়টি আঁচ করতে পারেন। শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে ক্ষুব্ধ হলে, অভিযুক্ত মরিয়ম সেখান থেকে পালিয়ে যান।
চিকিৎসা ও আইনী পদক্ষেপ
পরদিন সকালে শিশুটিকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। বর্তমানে সোহা মনি ঐ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা এমন বর্বরতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। শিশুটির বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, "বাড়িতে ফিরে মেয়েকে কাঁদতে দেখি। শরীরে মারধরের দাগ দেখে আমি হতবাক হয়ে যাই। আমাকে দেখে মরিয়ম পালিয়ে যায়।"
লোহাজুরী ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম খোকন জানান, "সোহা মনির মা ৮ মাস আগে পালিয়ে যান, বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সৎমার নির্যাতনে শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা।"
কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "তিন বছরের শিশুর ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা জানার পর আমরা অভিযুক্ত মরিয়মকে আটকের জন্য ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়েছি। আশপাশের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে, অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।"
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজও নিশ্চিত করেছেন যে, সৎমাকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে। এই ঘটনা শিশু অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে, যা সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।



