মাদারীপুরে বিনামূল্যের টিফিন খেয়ে ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ, গঠিত হলো তদন্ত কমিটি
মাদারীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিনামূল্যে বিতরণ করা টিফিন খেয়ে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসক মিজ মর্জিনা আক্তার স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে এই কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির গঠন ও দায়িত্ব
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুয়েল আহম্মেদকে প্রধান করে গঠিত ৫ সদস্যের এই তদন্ত কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মিজ মর্জিনা আক্তার জানান, ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে রুটি, কলা ও ডিম টিফিন হিসেবে বিতরণ করা হচ্ছে। সামান্তা ট্রেডার্স নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই খাবারগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণ
বুধবার দুপুরে মাদারীপুর সদরের পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই টিফিন খাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলো হলো চর লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পোকরারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাউজদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং করদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাউরুটি ও ডিম বিতরণ করে। খাবার খাওয়ার কিছু সময় পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচণ্ড পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। শিক্ষকরা দাবি করেন, এই ঘটনায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবার রিপন ঘটনাস্থলে গিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিতরণ করা টিফিনের রুটি, কলা ও ডিম আলামত হিসেবে জব্দ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফিডিং কার্যক্রমের প্রকল্প পরিচালক ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হারুণ অর রশীদ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাবসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন।
কর্মকর্তারা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এই ঘটনা প্রাথমিক শিক্ষা খাতে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের গুরুত্ব তুলে ধরেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



