বরিশালে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু: তিন চাকা যানের ধাক্কায় নিহত, সড়ক অবরোধে উত্তাল বিক্ষোভ
বরিশাল নগরীতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শের-ই-বাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিহত হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের আয়োজন করেছে। ব্যাটারিচালিত তিন চাকা যানের ধাক্কায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী চৈতির মৃত্যুতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
গত বুধবার দুপুরে বিদ্যালয় ছুটির পর সড়ক পারাপারের সময় বিএম কলেজ রোড এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকা যানের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন চৈতি। তাকে প্রথমে বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল ও পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়। চৈতি তার মায়ের সঙ্গে নগরের জিয়া সড়ক এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং তার বাবা ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও দাবি
এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। তারা অভিযোগ করে যে, আহত হওয়ার পর চৈতিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও যথাযথ চিকিৎসা দিতে দেরি হওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার, বিদ্যালয়ের সামনে স্পিডব্রেকার স্থাপন এবং তিন চাকা যানের চালককে গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।
সড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অসুবিধা তৈরি করে।
পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই চৈতির লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। প্রশাসকের আশ্বাসে প্রায় এক ঘণ্টা পর সড়ক অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা, যা স্থানীয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে।
স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া
এই দুর্ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, অনেকেই সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে বিদ্যালয় এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে নাগরিকরা দ্রুত পদক্ষেপের দাবি করছেন।
এই ঘটনা শহরের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং জরুরি চিকিৎসা সেবার গতির প্রশ্ন তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।



