মাদারীপুরে মিড ডে মিলে নিম্নমানের খাবারের অভিযোগ, অসুস্থ ১৫ শিক্ষার্থী
মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল প্রকল্পের আওতায় নিম্নমানের খাবার সরবরাহের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি ও পচা ডিম খাওয়ার পর কমপক্ষে ১৫ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বুধবার ঘটনাটি ঘটে এবং অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ ও উত্তেজনা
অভিযোগে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা রুটি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল এবং সিদ্ধ ডিম থেকে পানি ঝরছিল, যা স্পষ্টভাবে পচনশীল অবস্থা নির্দেশ করে। এসব নিম্নমানের খাবার খাওয়ার পরই শিক্ষার্থীরা বমি, পেটব্যথা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করে। স্থানীয় সূত্রে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ঠিকাদারদের ভূমিকা ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় ঠিকাদার রঞ্জু মুন্সি ও হান্নান কাজী নামে দুই ব্যক্তি খাবার সরবরাহ করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা, তবে এ বিষয়ে তারা মুখ খুলতে রাজি হননি। ১৬৫নং পোকরারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুন চৌধুরী বলেন, ‘বাচ্চাদের নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়েছিল। তখন আমরা আপত্তি জানিয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের কথা শোনা হয়নি। এখন ওই নিম্নমানের রুটি খেয়ে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা আমাকে অবহিত করেছেন। বাচ্চাদের খাবার সরবরাহে কোনও অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে দিয়ে পরীক্ষা করানো হবে। যারা নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।’ তিনি এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
এই ঘটনা শিশু স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছে, কারণ মিড ডে মিল প্রকল্পটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি সরবরাহের লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও, তাদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। প্রশাসন এখন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খাবার পরীক্ষা করানো এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়ক হতে পারে।



