রাজশাহীতে হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, টিকাদান কর্মসূচি শুরু
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার সময়কালে এই দুই শিশুর মৃত্যু ঘটে।
হাসপাতালে হামের বর্তমান পরিস্থিতি
এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ১৪ জন নতুন শিশু ভর্তি হয়েছে। অন্যদিকে, সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৩৬ শিশু। বর্তমানে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১২৫ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতালটিতে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৩৯১ জন শিশু। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪০ শিশু।
রাজশাহী বিভাগে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন
রবিবার থেকে রাজশাহী বিভাগের ৫টি জেলায় শিশুদের জন্য তিন সপ্তাহব্যাপী বিশেষ হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। তুলনামূলকভাবে বেশি সংক্রমণপ্রবণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। রবিবার সকাল ৯টায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা কমিউনিটি ক্লিনিকে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এই টিকাদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা ও বাস্তবায়ন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে বলেন, "রবিবার থেকে শিশুদের জন্য তিন সপ্তাহব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলো। এই কর্মসূচির আওতায় মোট ৫৬ হাজার ৬০০ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।" সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রথম দিনে মোট ২৭টি কেন্দ্রে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং রবিবার ৫ হাজার ৬০০ জন শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
টিকাদান কেন্দ্রের পরিবেশ ও জনসাধারণের সাড়া
টিকাদান কেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে জেলা প্রশাসক বলেন, কেন্দ্রগুলোতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে এবং অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে কার্যক্রমটি এগিয়ে যাচ্ছে। অভিভাবকরা নিজ উদ্যোগে তাদের শিশুদের কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন। টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া দেখা যাচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত টিকা নিতে কারও কোনও অনীহা লক্ষ্য করা যায়নি। সবমিলিয়ে বেশ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
টিকাদানের বয়সসীমা ও পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস আই এম রাজিউল করিম জানান, ৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এই টিকা দেওয়া হবে। প্রথম দিনে গোদাগাড়ী উপজেলায় ৫ হাজার ৬৫০ জন এবং পৌরসভায় ৬২৮ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। যেসব শিশু কমপক্ষে ২৮ দিন আগে টিকা নিয়েছে, তাদেরও এই কর্মসূচির আওতায় পুনরায় টিকা দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে জেলার প্রায় ৪০ হাজার শিশুর মধ্যে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আগামী তিন সপ্তাহ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে এই কার্যক্রম চলবে।



