কেরানীগঞ্জে গ্যাস লাইট কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ছয় শ্রমিক নিহত
রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কদমতলী এলাকায় একটি গ্যাস লাইট তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ছয়জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দগ্ধ অবস্থায় আরও দুজনকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময়রেখা ও উদ্ধার অভিযান
শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা ১টার দিকে কদমতলীর 'ডিপজল গলি' সংলগ্ন কারখানাটিতে হঠাৎ আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বিকাল ৪টা ৪৪ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়। এরপর কারখানার ভেতর থেকে ছয়জন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। মরদেহগুলো এতটাই দগ্ধ হয়েছে যে, তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো নারী না পুরুষের তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
আহতদের অবস্থা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা
দগ্ধ দুই শ্রমিক— মো. আসিফ (১৪) ও মোহাম্মদ জসিম (১৭) কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আসিফের শরীরের ১৫ শতাংশ এবং জসিমের ২২ শতাংশ পুড়ে গেছে। শনিবার দিবাগত রাতে দগ্ধদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের হাসপাতাল পরিদর্শন
রাত ১০টার দিকে শ্রমমন্ত্রীও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নেন। অগ্নিকাণ্ডে আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে যান বিএনপি নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরী। এছাড়া রাত ১১টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস হাসপাতাল পরিদর্শন করে চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিস্ফোরণের সম্ভাব্য কারণ ও তদন্ত
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানিয়েছে, গ্যাস লাইট তৈরির কারখানায় রাসায়নিক বা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা বিস্ফোরণের সঠিক কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণে কাজ করবে।



