কেরানীগঞ্জের কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: মরদেহ উদ্ধারে সংখ্যা বেড়ে ছয়, তদন্ত কমিটি গঠন
কেরানীগঞ্জ কারখানা অগ্নিকাণ্ডে মরদেহ ছয়, তদন্ত কমিটি গঠন

কেরানীগঞ্জের কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: মরদেহ উদ্ধারে সংখ্যা বেড়ে ছয়

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকায় একটি গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত সোয়া বারোটার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এক খুদে বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই নতুন উদ্ধারের সাথে সাথে ঘটনায় মোট ছয়জনের মরদেহ পাওয়া গেল, যা আগের সংখ্যা থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের সময়রেখা ও উদ্ধার কার্যক্রম

নিবার বেলা একটার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কদমতলী ডিপজল গলি সড়ক এলাকার কারখানাটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর বেলা আড়াইটার দিকে আগুন আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরই উদ্ধারকারীরা কারখানা ভবন থেকে পাঁচজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে শনিবার রাতে আরও একজনের মরদেহ পাওয়া যায়, যা মোট সংখ্যা ছয়তে নিয়ে যায়। উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো দগ্ধ ও পুড়ে যাওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা নির্দেশ করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহতদের পরিচয় ও আহতদের অবস্থা

প্রথমে উদ্ধার হওয়া পাঁচজনের মরদেহের মধ্যে তিনজনই নারী বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এদের মধ্যে শুধুমাত্র একজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, বাকি দুজনের পরিচয় এখনও অজানা রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানায় উপস্থিত ছিলেন এমন ব্যক্তিদের সন্ধান ও শনাক্তকরণের কাজ চলছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ ঘটনায় দুজন ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে, এবং চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। আহতদের পরিবারকে সহায়তা ও সমর্থন দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে।

তদন্ত কমিটি গঠন ও প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ

এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্তের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অপারেশনস ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের শনাক্ত করা যায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহত ও আহতদের পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন, যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার প্রধান ফটক তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল, যা দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছিল। এই নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়টি তদন্ত কমিটি বিশদভাবে পরীক্ষা করবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কারখানায় দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের অভাব ছিল, যা এই বিপর্যয়কে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা কারখানাগুলোর নিরাপত্তা মান নিয়মিত পরিদর্শন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধ করা যায়। এই ঘটনা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরদার করা হচ্ছে।