সাভারে শিশু ওয়াহিদের চোখে সুপার গ্লু ঢেলে নির্যাতন: অভিযুক্ত বোনের জামাই রাজ্জাক
শিশু ওয়াহিদের চোখে সুপার গ্লু ঢেলে নির্যাতন, অভিযুক্ত বোনের জামাই

সাভারে শিশু ওয়াহিদের চোখে সুপার গ্লু ঢেলে নির্মম নির্যাতন

সাভারে আট বছর বয়সী শিশু ওয়াহিদের দুই চোখে সুপার গ্লু ঢেলে মারধরের মর্মান্তিক অভিযোগ উঠেছে। এই নির্মম ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে শিশুটির বোনের জামাই রাজ্জাককে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে ধামরাইয়ের ‘নিলা বর্ষা পার্কের’ সামনে থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে শিশুটিকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

পরিবারের বক্তব্য ও ঘটনার বিবরণ

আহত শিশু ওয়াহিদ নাজিম উদ্দিন ও সাহিদা দম্পতির ছেলে। তারা সাভার পৌর এলাকার ভাগলপুর মহল্লায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত রাজ্জাক ধামরাইয়ের বরদাইল এলাকার সালামের ছেলে বলে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী শিরীন জানান, সকালে বাড়ির পাশের পার্কের কাছে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তার দুই চোখ ফুলে গিয়েছিল এবং শরীর থেকে রক্ত বের হচ্ছিল। পরে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সহযোগিতায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শিশুটির পিতা নাজিম উদ্দিন দাবি করেন, তার ছেলে ওয়াহিদকে মেয়ের জামাই রাজ্জাক মারধর করেছে। হাসপাতালে এসে তিনি দেখেন, শিশুটির দুই চোখে সুপার গ্লু আঠা দেওয়া। তবে নির্যাতনের সঠিক কারণ তার জানা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। শিশুটির মা সাহিদা বেগম বলেন, “আমি গার্মেন্টসে চাকরি করি। সারাদিন বাড়িতে থাকি না। হঠাৎ জানতে পারি আমার মেয়ে জামাই রাজ্জাক ছোট ছেলেকে বেড়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করে চোখে আঠা লাগিয়ে দিয়েছে। এখন তার অবস্থা খুব খারাপ।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসক ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদ আল হাসান বলেন, “শিশুটির দুই চোখ সুপার গ্লু দিয়ে বন্ধ ছিল এবং শরীরে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। আমরা তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছি।” সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাকিম বিল্লাহ জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। শিশুটির দুই চোখে আঠা এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি ধামরাই থানার আওতাধীন এলাকায় সংঘটিত হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

এই ঘটনা শিশু নির্যাতনের ভয়াবহতা এবং সামাজিক সুরক্ষার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। স্থানীয় সম্প্রদায় ও কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলমান রয়েছে, এবং আশা করা হচ্ছে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে।