কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: শিক্ষকের রোষ ও মানসিক চাপের অভিযোগ
কুমিল্লা মেডিকেল শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: শিক্ষকের রোষের অভিযোগ

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: শিক্ষকের রোষ ও মানসিক চাপের অভিযোগ

কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের আত্মহত্যার ঘটনায় শিক্ষক ও কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানসিক চাপ ও নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কলেজ ক্যাম্পাসের হোস্টেল কক্ষ থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

শিক্ষকের রোষ ও বারবার ফেলের অভিযোগ

নওশিনের সহপাঠীদের অভিযোগ, তিনি কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের একজন শিক্ষকের রোষানলে পড়েছিলেন। প্রথম বর্ষ থেকেই তাকে প্রতিনিয়ত মানসিক চাপে রাখা হতো। একটি বিষয়ে পাঁচবার পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি তিনি। এতে মানসিক চাপে ১০৯টি ট্যাবলেট সেবন করে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ।

সহপাঠীরা জানান, প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় অন্যান্য সব বিষয়ে পাস করলেও অ্যানাটমিতে ফেল করেন নওশিন। গত তিন বছরে আরও চারবার একই বিষয়ে পরীক্ষা দিলেও প্রতিবারই অকৃতকার্য হন। প্রথম বর্ষে থাকতেই প্রকাশ্যে তাকে ফেল করানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত কমিটি গঠন ও পুলিশি তদন্ত

আজ শনিবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নওশিনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজ অধ্যক্ষ ফজলুল হক জানান, তারা ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন, যাকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল মোস্তফা বলেন, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। শিক্ষার্থীর পরিবার বিষয়টি নিয়ে কোনো অভিযোগ না করলেও পুলিশ নিজ উদ্যোগে তদন্ত চালাচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের বক্তব্য ও শিক্ষকের নীরবতা

নওশিনের ভাই শাহরিয়ার আরমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বোনের আত্মহত্যা করার মতো মানসিকতা ছিল না। কলেজের মানসিক চাপই তাকে এই পথে ঠেলে দিয়েছে। প্রথম বর্ষ থেকেই তাকে মানসিকভাবে নিপীড়ন করা হয়েছে। সবাই পাস করলেও আমার বোনকে একটি বিষয়ে আটকে রাখা হয়েছে।’

অভিযুক্ত অ্যানাটমি বিভাগের শিক্ষক গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছেন এবং কারও কল ধরছেন না বলে জানা গেছে। কলেজ অধ্যক্ষ ফজলুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছে। যদি এ ঘটনায় কেউ যুক্ত থাকে, তদন্তে প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত পটভূমি

অর্পিতা নওশিন খুলনার সরকারি করনেশন গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি খুলনা সদরে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছোট ছিলেন।

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, গত ৮ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে তাঁদের ব্যাচের তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। একই সেশনের অন্য শিক্ষার্থীরা এখন পঞ্চম বর্ষে পড়লেও নওশিন প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষাতেই আটকে ছিলেন।

এই ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য ও নৈতিক দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে, যা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।