জয়পুরহাটে ডায়রিয়ার প্রকোপ: দুই দিনে শতাধিক শিশু হাসপাতালে ভর্তি
জয়পুরহাটে ডায়রিয়ার প্রকোপ, শতাধিক শিশু ভর্তি

জয়পুরহাটে ডায়রিয়ার প্রকোপ: হাসপাতালে স্থান সংকট, শিশুদের মেঝেতে চিকিৎসা

জয়পুরহাটে হঠাৎ করেই ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে চাপের মুখে ফেলেছে। গত দুই দিনে জয়পুরহাট জেলা শহরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিশু ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু, যাদের চাপে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড স্থানান্তর করেও স্থান সংকুলান হচ্ছে না।

হাসপাতালে স্থান সংকট ও চিকিৎসার দৃশ্য

বুধবার দুপুরে সরেজমিন হাসপাতাল পরিদর্শনে দেখা গেছে, নিচতলার বেডেও জায়গা না পাওয়ায় অনেক রোগীকে মেঝেতে বিছানা পেতে আশ্রয় নিতে হয়েছে। হাসপাতালের তৃতীয় তলার ডায়রিয়া ওয়ার্ডটিকে নিচতলায় স্থানান্তর করা হলেও, রোগীর সংখ্যা এতটাই বেশি যে পুরো ওয়ার্ড ছাপিয়ে করিডোর পর্যন্ত এখন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে। এসব শিশু রোগীদের স্যালাইন পুশসহ প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হচ্ছে, এবং সুস্থ হওয়ায় কিছু রোগী ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরে গেছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

রোগীর সংখ্যা ও প্রভাবিত এলাকা

হাসপাতালের দেওয়া তথ্য অনুসারে, বুধবার রিপোর্ট লেখার সময় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, আর আগের দিন মঙ্গলবার ভর্তি হয়েছিল ৪০ জনেরও বেশি। আক্রান্তরা জয়পুরহাটের সদর উপজেলার হরিপুর গ্রাম, ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী গ্রাম, এমনকি পার্শ্ববর্তী জেলা নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ইছবপুর গ্রাম থেকেও আসছেন। উদাহরণস্বরূপ, আবু বকর সিদ্দিক তার সাড়ে ৪ বছর ও দেড় বছরের দুই ছেলেকে মঙ্গলবার সকালে ভর্তি করিয়েছেন, অন্যদিকে জলি আকতার তার ২ বছরের শিশু আব্দুর রহমানকে রাতে জরুরি ভিত্তিতে এনেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কারণ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক জুয়েল বলেন, "হঠাৎ করেই ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। ডায়রিয়া একটি পানিবাহিত রোগ, এবং খাবারের ত্রুটি থেকেই এর ব্যাপকতা বেড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে চিকিৎসা গ্রহণের পর রোগীরা সুস্থ হয়ে উঠছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। তবে, স্থান সংকটের কারণে হাসপাতালকে নিচতলায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয়েছে, যা স্বাস্থ্য সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়ানো যায়।