হামের প্রাদুর্ভাবে সংসদ সদস্যদের হাসপাতাল পরিদর্শনের আহ্বান
হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সংসদ সদস্যদের (এমপি) নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার হাসপাতাল পরিদর্শনের জন্য বৃহস্পতিবার সংসদ ছুটি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন। বুধবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মাগুরা–১ আসনের এই সংসদ সদস্য এ পরামর্শ দেন। অবশ্য আজ সংসদের অধিবেশন বসবে বলে জানা গেছে।
হামের মহামারি রূপ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ
মনোয়ার হোসেন বলেন, 'হাম এখন মহামারির রূপ নিচ্ছে। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার সংসদে ছুটি দিয়ে এমপিদের মাঠে পাঠানো যেতে পারে।' তিনি উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যার ফলে হাসপাতালগুলোতে ভিড় বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুদের। সংক্রামক এই রোগ মূলত শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে এবং দ্রুত একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
নিজ সংসদীয় আসনের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে মনোয়ার হোসেন বলেন, ২০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন থাকলেও সেটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু হয়নি। হাসপাতালের দুটি লিফটই অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও ডায়ালাইসিস ইউনিট চালুর মতো প্রস্তুতিও সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে গুরুতর রোগীদের অন্যত্র পাঠাতে হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যসেবার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
রাজনৈতিক আলোচনা ও সহায়তার দাবি
এ সময় চাঁদপুর–৫ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মমিনুল হক বলেন, রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, যা তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তিনি বিএনপির ১৬ বছরের আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে সহায়তার দাবি জানিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের শহীদ পরিবারগুলো ২৫ লাখ টাকা করে সহায়তা পেলেও এর আগের সময়ের নিহত নেতা–কর্মীদের পরিবার সেই সহায়তা পাননি। দীর্ঘদিন জেল–জুলুম ও মিথ্যা মামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তাদেরও সহায়তার আওতায় আনা উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
অন্যান্য সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ
অন্যদের মধ্যে নরসিংদী–১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, খুলনা–১ আসনের আমীর এজাজ খান, কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম ভূঁইয়া, গাইবান্ধা–৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন। এই চারজনই বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিত, যা রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
হামের প্রাদুর্ভাব ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে এই আলোচনা সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।



