কুষ্টিয়ায় হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় ৯০ শিশু ভর্তি, হাসপাতালে বিছানার সংকট
কুষ্টিয়ায় হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৯০টি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চলতি বছরের পয়লা জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত ৮৮ দিনে মোট ১৬৩টি শিশু আক্রান্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালে রোগীর চাপ ও বিছানার সংকট
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছে। ওয়ার্ডের কক্ষ পূর্ণ হয়ে বারান্দায় শিশু রোগীদের রাখা হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ডে বিছানার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কয়েকটি বিছানায় দুটি করে শিশু রাখা হয়েছে। অধিকাংশ শিশু জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে।
রোগীদের অভিযোগ ও চিকিৎসা পরিস্থিতি
হামে আক্রান্ত শিশুদের মা ও স্বজনরা অভিযোগ করছেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে না। সিরিঞ্জ থেকে শুরু করে জ্বরের সিরাপ পর্যন্ত বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ১,২০০ টাকা খরচ হচ্ছে। নার্স কামরুন্নাহার বলেন, "পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। স্টোর কক্ষের কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে, কিন্তু কোনো কিছু পাওয়া যাচ্ছে না।"
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হোসেন ইমাম জানান, বর্তমানে ১৯ জন হাম রোগী ভর্তি আছে। তিনজন রোগীর অবস্থা গুরুতর। তিনজন চিকিৎসক ও তিনজন নার্সের তত্ত্বাবধানে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
আক্রান্তের পরিসংখ্যান ও হটস্পট এলাকা
কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার জানান, ৯০ শতাংশ আক্রান্ত শিশুর বয়স ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে। কুমারখালী ও দৌলতপুর উপজেলা হামের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ পর্যন্ত ১১টি নমুনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। প্রথম রোগী ঢাকা থেকে এসেছিল।
চলতি বছরে জানুয়ারিতে ১৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২০ জন এবং মার্চের ২৯ দিনে ১২৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। মোট ১৫ জন পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পদক্ষেপ ও সতর্কতা
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, "রোগী বাড়তির দিকে যাচ্ছে। সব হাসপাতালে পৃথক 'হাম আইসোলেশন কর্নার' করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সভা করে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকায় মাইকিং করে সচেতনতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কুষ্টিয়ায় প্রতি ১০ লক্ষ জনগণের মধ্যে ২০২৪ সালে গড়ে ৫ জন, ২০২৫ সালে ৩ জন এবং ২০২৬ সালের তিন মাসে গড়ে ১৫ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে। অধিকাংশ রোগীর বয়স ৫ বছরের নিচে এবং তারা হাম-রুবেলা টিকা পায়নি।



