বাংলাদেশ মেডিকেলে মায়ের কিডনি দানে সফল প্রতিস্থাপন, রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেলেন
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেফ্রোলজি ও ইউরোলজি বিভাগের তত্ত্বাবধানে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সফল অস্ত্রোপচারের পর বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে, রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। এই প্রতিস্থাপনে রোগীর মা নিজের কিডনি দান করেছেন, যা একটি মর্মস্পর্শী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
চিকিৎসা দলের নেতৃত্ব ও প্রক্রিয়া
নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামের অধীনে ভর্তি এই রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগ দ্বারা পরিচালিত হয়। দাতা থেকে কিডনি অপসারণ দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. তৌহিদ মো. সাইফুল ইসলাম দিপু। অন্যদিকে, গ্রহীতার শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন দলের নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক একেএম খুরশিদুল আলম ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।
রোগীর পটভূমি ও চিকিৎসা যাত্রা
দেশের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত এই রোগী সম্পূর্ণভাবে ডায়ালাইসিসের উপর নির্ভরশীল ছিল, যা তার ও পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। রোগীর মায়ের আকুতিতে, বর্তমান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সহায়তায়, কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য রোগীকে ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়।
২৮ জানুয়ারি মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ২ মার্চ রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপনের সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এই সার্জারিতে, সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে তার গর্ভধারিণী মা কিডনি দান করেন। সার্জারির পর রোগী ও তার মা উভয়ই সুস্থ থাকায়, ২৫ মার্চ তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়।
ছাড়পত্র প্রদান ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তির উপস্থিতি
রোগীর ছাড়পত্র প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন রোগীকে আর্থিকভাবে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানকারী জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং দেশে এ ধরনের জটিল চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
চিকিৎসকের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "দেশে আইনি জটিলতার কারণে প্রয়োজনীয় কিডনি প্রতিস্থাপনের সংখ্যা এখন অনেক কম। তবে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অত্যন্ত দক্ষ এবং তারা বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সক্ষম।"
তিনি আরও যোগ করেন, রোগীদের আস্থা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের উপর জোর দেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা কমে আসবে।
এই সফল প্রতিস্থাপন বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।



