পটুয়াখালীতে চা-দোকানিকে মারধর করে হত্যা, পাওনা টাকা চাওয়ায় ক্রেতার রোষ
পটুয়াখালীতে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে এক বৃদ্ধ চা-দোকানিকে মারধর করে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তি মো. রহিম প্যাদা (৬৫) সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি একটি ছোট চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
ঘটনার বিবরণ
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, স্থানীয় কামাল হাওলাদার রহিম প্যাদার দোকান থেকে বিভিন্ন সময় চা ও সিগারেট নিলেও টাকা দিতেন না। গত মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে কামাল আগের মতোই বাকিতে সিগারেট চাইলে রহিম প্যাদা অস্বীকৃতি জানিয়ে পাওনা টাকা চান। এতে কামাল ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে দোকান থেকে টেনে বাইরে বের করে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় দেন।
এ সময় রহিমকে বাঁচাতে তাঁর স্ত্রী সেতারা বেগম এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিহতের নাতি সজীব হাওলাদার (২১) ও নাতনি নিশি আক্তার (১৯) জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের অন্য স্বজনরা এগিয়ে এসে হামলাকারী কামাল হাওলাদারের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তাঁদেরও মারধর করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা
খবর পেয়ে কামালের বড় ভাই জামাল হাওলাদার এসে ভাইয়ের সঙ্গে মারধরে অংশ নেন। এ সময় দুই ভাইয়ের সঙ্গে মারধরে অংশ নেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের কথিত সভাপতি শাহাবুদ্দিন এবং স্থানীয় নুরুল ইসলাম ও খোকন হাওলাদারসহ আরও কয়েকজন। হামলাকারীরা রহিম প্যাদাকে মাটিতে ফেলে রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন এবং নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়।
রাত ৯টার দিকে তাঁকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট ও পোস্টমর্টেম সম্পন্ন করা হয়েছে।
মামলা ও অভিযোগ
বুধবার বিকেলের দিকে নিহত রহিম প্যাদার বড় মেয়ে নাজমা বেগম পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় কামাল হাওলাদার দোকান থেকে বাকিতে মালামাল নিয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা বকেয়া রাখেন। এই টাকা চাইতে গেলে তাঁর বাবাকে পিটিয়ে খুন করেন কামাল হাওলাদার, জামাল হাওলাদার, শাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ কয়েকজন।
নাজমা আরও দাবি করেন, আসামিরা এর আগেও তাঁর বাবাকে মারধর করেছেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট ও পোস্টমর্টেম করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। এ ছাড়া জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ন্যায়বিচারের দাবি উঠছে। পুলিশের তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।



