ঈদের দিন ঢামেক থেকে অপহৃত দুই বছরের শিশু উদ্ধার, র‍্যাবের অভিযানে আটক এক
ঢামেক থেকে অপহৃত শিশু উদ্ধার, র‍্যাবের অভিযানে আটক

ঈদের দিন ঢামেক থেকে অপহৃত দুই বছরের শিশু উদ্ধার, র‍্যাবের অভিযানে আটক এক

রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে ঈদের দিন অপহৃত দুই বছর বয়সী শিশু ফোজাইলকে মধ্যরাতে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের নজির স্থাপন করেছে।

ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান

শনিবার দুপুরে ঢামেক হাসপাতালের ভবন-২ এর তৃতীয় তলার হৃদরোগ বিভাগ থেকে ফোজাইল নামে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়। শিশুটির বাবা মাজহারুল ইসলাম ও মা নুসরাত জাহান তাকিয়া, যাদের বাড়ি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় হলেও বর্তমানে তারা রাজধানীর খিলক্ষেত নিকুঞ্জে বসবাস করছেন। ঘটনার পর রাতেই শিশুটির স্বজনদের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

বিষয়টি জানার পর র‍্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযান চালায়। শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাশিদুল আলম রোববার বিকালে শিশুটির উদ্ধার নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের সূত্র ধরে যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগ এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং একজনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের বর্ণনা ও হাসপাতালের পরিস্থিতি

শিশুটির মা নুসরাত জাহান তাকিয়া জানান, দুইদিন আগে তার বাবা হাফেজ নাসির উদ্দিন (৬১) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢামেক হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ভর্তি হন। শনিবার দুপুরে তিনি ছেলে ফোজাইলকে নিয়ে হাসপাতালে যান। দুপুরে ওয়ার্ডের ভেতরে সবাই খাবার খাচ্ছিলেন, তখন ফোজাইল ওয়ার্ডেই ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরে হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে অনেক খোঁজ করেও শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি। এ সময় হাসপাতালের আনসার ও পুলিশের সহায়তায় ব্যাপক খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। একপর্যায়ে মুক্তিপণ দাবির ফোন আসলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়, যা র‍্যাবের দ্রুত অভিযানের দিকে পরিচালিত করে।

অভিযানের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

র‍্যাবের অভিযানটি মোবাইল ট্র্যাকিং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা শিশু অপহরণের মতো সংবেদনশীল মামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা প্রদর্শন করে। শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ঘটনা রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করে, বিশেষ করে হাসপাতালের মতো জনবহুল স্থানে।