ঈদের ছুটিতে ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ আহত ১১৪ জন
ঈদের ছুটিতে সড়কে যানবাহনের চাপ কম থাকলেও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে ঢাকায় একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। আজ রোববার রাজধানীর রায়েরবাজারের আজিজ খান সড়ক এলাকায় দ্রুতগতির একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় আহত হয়েছে আড়াই বছর বয়সী শিশু আবু সাঈদ। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) জরুরি বিভাগে তাকে নিয়ে হাজির হন মা-বাবা।
শিশুটির দুর্ঘটনা ও হাসপাতালে চিকিৎসা
বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে পঙ্গু হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কক্ষের সামনে দেখা যায়, সাঈদকে কোলে নিয়ে বসে আছেন বাবা মোহাম্মদ সেলিম। শিশুটির নাক ও মুখে রক্তের দাগ স্পষ্ট, মা নাজমা বেগম পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর পা সোজা করে ধরে রেখেছেন। সেলিম জানান, তাঁর ছেলে রাস্তার পাশে খেলছিল, হঠাৎ দ্রুতগতির অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয়। অটোরিকশাচালক ঘটনাস্থলেই গাড়ি রেখে পালিয়ে যান। সাঈদের মাথার এক্স-রে করা হয়েছে, চিকিৎসকরা আঘাতের অবস্থা পরীক্ষা করছেন।
হাসপাতালে রোগীদের ভিড় ও পরিসংখ্যান
পঙ্গু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আজ সকাল সাতটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ১১৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে ৮৬ জন পুরুষ ও ২৮ জন নারী। আঘাতের তীব্রতা অনুযায়ী ২২ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার ঈদের দিনে ২৬৯ জনকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক অপু মজুমদার বলেন, "বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, সিএনজি বা টমটমের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটছে। অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চালানোর কারণেই এগুলো হচ্ছে।"
অন্যান্য আহতদের বর্ণনা
জনি খান: মাদারীপুরের রাজৈরের বাসিন্দা জনি খান ঢাকায় কারওয়ান বাজারে একটি মাংসের দোকানে কাজ করেন। ঈদের বন্ধে বাড়ি গিয়ে অটোরিকশার ধাক্কায় তাঁর ডান পা হাঁটুর নিচে ভেঙে গেছে। ভাই রাজন খান জানান, গ্রামের চায়ের দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে বসে থাকা অবস্থায় দ্রুতগতির অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁর পায়ে ধাক্কা দেয়।
সোলেমান প্রামাণিক: সিরাজগঞ্জের সোলেমান প্রামাণিক নিজে রিকশা চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গিয়ে ডান পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। ছেলে শফিকুল প্রামাণিক বলেন, বাজার থেকে হাঁস কিনে ফেরার পথে হাঁসটি উড়াল দিলে তা ধরতে গিয়ে রিকশার নিয়ন্ত্রণ হারান তাঁর বাবা, রিকশা উল্টে পায়ের ওপর পড়ে যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, রড লাগাতে হবে।
চিকিৎসা ব্যবস্থা ও সতর্কতা
হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। চিকিৎসকরা রোগীদের আঘাতের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা দিচ্ছেন, কাউকে ভর্তি রেখে, কাউকে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছেন নির্দিষ্ট সময় পরপর ফলোআপে আসার পরামর্শ দিয়ে। এই অবস্থায় সড়কে সতর্কতা ও গতি নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে ঈদের আনন্দ দুর্ঘটনায় পরিণত না হয়।



