দোহারে স্ত্রীর হাতে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটার মর্মান্তিক ঘটনা, পলাতক স্ত্রী
দোহারে স্ত্রীর হাতে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটার ঘটনা, পলাতক স্ত্রী

দোহারে স্ত্রীর হাতে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটার মর্মান্তিক ঘটনা

ঢাকার দোহার উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এক ব্যক্তির স্ত্রী তার ঘুমন্ত অবস্থায় পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোররাতে দোহার উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মিল্লিক বিলাসপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তি ফিরোজ হোসেন (৩৮) বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন, আর তার স্ত্রী পায়েল ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিরোজের পরিবার ও স্থানীয়রা।

ঘটনার বিবরণ ও আহতের পরিচয়

ফিরোজ হোসেন জয়পাড়া বাজারের একজন ব্যবসায়ী এবং তিনি ওই এলাকার শেখ আনছারের ছেলে। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, ফিরোজের সাথে প্রায় ১৬/১৭ বছর আগে জয়পাড়া খাড়াকান্দা গ্রামের পায়েলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে অশান্তি লেগে থাকতো বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। শুক্রবার ভোরে, ফিরোজ ঘুমে থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী পায়েল একটি ব্লেড দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ কেটে দেন। এসময় ফিরোজের চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং তাকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন।

চিকিৎসা ও আইনি পদক্ষেপ

দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ফিরোজের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায়, চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় প্রেরণ করেন। দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রবিউল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, "পুরুষাঙ্গ কাটা অবস্থায় ফিরোজ নামে এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় আমরা তাকে ঢাকায় রেফার্ড করেছি।" অন্যদিকে, দোহার থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, "এই ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

পলাতক স্ত্রী ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পর থেকে ফিরোজের স্ত্রী পায়েল পলাতক রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা নিশ্চিত নন যে কী কারণে পায়েল এমন ঘটনা ঘটালেন। তবে তারা পায়েলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছেন, যা দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তির ইঙ্গিত দেয়। স্থানীয়রা ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিস্ময়কর হিসেবে বর্ণনা করেছেন, এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এই ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক সহিংসতার একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সমাজে নারী-পুরুষ সম্পর্ক ও আইনি সুরক্ষার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।