ইবি শিক্ষিকা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুর রহমান গ্রেফতার, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
ইবি শিক্ষিকা হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

ইবি শিক্ষিকা হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার ইবি থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার ১ নম্বর আসামি ফজলুর রহমান বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং আহত অবস্থার কারণে তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মামলা দায়ের ও অন্যান্য আসামিদের তালিকা

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে ইবি থানায় ফজলুর রহমানসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন নিহত আসমার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। পরে বিকালে ৩০২ ও ১০৯ ধারায় ফজলুরকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা করা হয়। মামলায় অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন:

  • বিভাগটির সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার ও উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস
  • বিভাগটির সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার
  • বিভাগটির আরেক সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান

দায় স্বীকার ও গ্রেফতারের পরিস্থিতি

এদিকে, কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রধান আসামি ফজলুর রহমান পুলিশের কাছে লিখিত স্টেটমেন্টে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। মামলা দায়ের হওয়ার পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, তবে আহত অবস্থার কারণে তিনি এখনও ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পটভূমি ও উদ্ধারকাজ

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকাল ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে আসমা সাদিয়া রুনার নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন বলে জানান চিৎকার শুনে উদ্ধার করতে যাওয়া আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষিকাকে জানাজা শেষে কবরস্থ করার পর বিকালে তার স্বামী চারজনকে আসামি করে এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোক ও উত্তেজনার পরিবেশ বিরাজ করছে, এবং পুলিশ তদন্ত জোরদার করেছে।