ঢাকার চাঁনখারপুলে নার্স নাহিদার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ
চাঁনখারপুলে নার্স নাহিদার মরদেহ উদ্ধার, স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

ঢাকার চাঁনখারপুলে নার্স নাহিদার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

রাজধানীর চকবাজারের চাঁনখারপুল এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে নাহিদা আক্তার ওরফে ববি নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নাহিদা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঘটনার বিবরণ ও পুলিশের তদন্ত

চকবাজার থানার উপপরিদর্শক মো. কাউছার জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে খবর পেয়ে পুলিশ চাঁনখারপুল এলাকায় যায়। ভাড়া বাসার দরজা ভেঙে নাহিদাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তিনি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলছিলেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনা ও অভিযোগের বিষয়ে স্বামী ইলিয়াস হোসেন বা তার পরিবারের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাহিদার ব্যক্তিগত জীবন ও নির্যাতনের ইতিহাস

নাহিদা আক্তার ববি সিরাজগঞ্জ সদরের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি চাঁনখারপুলে ভাড়া বাসায় স্বামী ইলিয়াস হোসেনকে নিয়ে থাকতেন, যিনি পেশায় ব্যবসায়ী। নাহিদার ফুফাতো ভাই ফরহাদ রহমান বলেন, নাহিদা ও ইলিয়াসের মধ্যে কলহ চলছিল এবং ইলিয়াস তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

ফরহাদ রহমান উল্লেখ করেন, গত বছরের জানুয়ারিতে নাহিদা ইলিয়াসের বিরুদ্ধে মামলা করেন, যার ফলে ইলিয়াস গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর তাদের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়। তবে মৃত্যুর আগে নাহিদা একটি চিরকুট লিখে যান, যাতে তিনি স্বামী ও তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেন।

ঘটনার আগের মুহূর্ত ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া

ফরহাদ রহমান আরও বলেন, ঘটনার আগে সন্ধ্যায় নাহিদা ও ইলিয়াস দুজনেই বাসায় আসেন এবং তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে ইলিয়াস চলে যান বলে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে শোনা যায়। ঘটনার পর থেকে ইলিয়াসের কোনও খোঁজ নেই। পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাইছে।

এই ঘটনা ঢাকার চাঁনখারপুল এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশ তদন্ত জোরদার করেছে। নাহিদার মৃত্যু নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।